সুদান: বৈশ্বিক শক্তির দাবার ছকে বন্দি মানবিক বিপর্যয়
সুদান নামটি মনে হলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু কঙ্কালসার দেহ। ক্ষুধার যন্ত্রণায় পাঁজরের হাড় বের হওয়া আর চোখ কোটরে ঢুকে যাওয়া কিছু মানুষ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিস্তেজ মানবদেহ, যার কিছু পচে মিশে যাচ্ছে মাটিতে; খাচ্ছে শকুন কিংবা শেয়ালে। বোমার আঘাতে নিশ্চিহ্ন শরীর, অঙ্গ হারিয়ে কাতরাচ্ছে মানুষ। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুপথযাত্রীর গোঙানিতে ভারী আজ সুদানের বাতাস। মানুষ মরছে প্রতিনিয়ত কাতারে কাতারে। একটা এলাকা থেকে উধাও হচ্ছে গোটা জাতি। ধর্ষণ থেকে বাদ পড়ছে না এক বছরের শিশুও।
মানুষ যখন বিশ্বজয়ের নেশায় মত্ত, তখন এ বিশ্বেরই কোনো এক প্রান্তে নিরন্তর ঘটে চলা মানুষের বাস্তুচ্যুতি আর মৃত্যু—এই মানুষের কাছেই স্বাভাবিক হয়ে ধরা দিচ্ছে কি? এটা মানবিকতার কোন অধ্যায়ের বিজয়? এহেন ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও যেখানে চলে সম্পদ বণ্টনের লড়াই! সোনার খনির অধিকারের দাম্ভিকতা! অথচ যে মানুষগুলো শুধু বাঁচতে চাইছে, তারা কি বুঝবে বা তাদের মাথায় কি ঢুকবে, ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে কার লাভ-ক্ষতির পাল্লা হচ্ছে ভারী? যার কাছে কর্ম নেই, খাবার নেই, তাকিয়ে তাকিয়ে মৃত্যু দেখা ছাড়া উপায় নেই, সে কী করে তার ভূখণ্ডে থাকা সম্পদের উত্তোলন কিংবা ব্যবহার নিয়ে মাথা ঘামাবে! সে নিজেই যখন ব্যবহৃত, নিঃশেষিত বা সেই পুঁজি অন্য কারো হাতে, অন্য কারও স্বার্থে। তেমনই অবস্থা এখন সুদানের। জাতিসংঘ বলছে, সুদান এখন বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি।