স্মার্টফোন, রিলসের যুগেও কেন সারাদিন রেডিও শোনেন তরুণ আফ্রিকানরা
ডিজিটাল যুগে কেনিয়ার যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ এমন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা শুনতে কিছুটা অদ্ভুতই মনে হতে পারে। জানা গেছে, দেশটির রেডিও তরঙ্গপথে এত ভিড় যে, নতুন স্টেশনের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কেনিয়ায় বর্তমানে ২৫০ টির বেশি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নতুন স্টেশন সম্প্রচারের অনুমতির অপেক্ষায়। রাজধানী নাইরোবির মতো বড় শহরগুলোতে রেডিও উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন স্টেশনের জন্য আর তেমন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি খালি নেই।
সমগ্র আফ্রিকায় রেডিওর বিস্ময়কর জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন এই পরিস্থিতি। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারে মনে হতে পারে, মানুষের মনোযোগের লড়াইয়ে রেডিও হয়তো পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গত এপ্রিলে প্রকাশিত আফ্রোব্যারোমিটারের এক জরিপ বলছে, আফ্রিকাজুড়ে সংবাদ জানার ক্ষেত্রে রেডিওর প্রভাব এখনো বেশ শক্তিশালী।
আফ্রিকায় রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ১৯২০-এর দশকে। ঔপনিবেশিক শাসকেরা প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে তখন রেডিও ব্যবহার করত। পরে স্বাধীনতা আন্দোলনগুলোও গোপন রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে প্রতিরোধ সংগঠিত করেছিল। ১৯৬০-এর দশকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ট্রানজিস্টর রেডিও সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেয়। তবে রেডিও কখনো কখনো ভয়ঙ্কর অপপ্রচারের মাধ্যমও হয়েছে। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার আগে একটি রেডিও স্টেশন তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।