শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা: বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার ঢেউ
বিশ্বজুড়ে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তি আসক্তি কমাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ কিংবা সীমিত করার একটি আন্তর্জাতিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অনুসরণে বর্তমানে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার একাধিক দেশ এই পথে হাঁটছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই আইনগুলো প্রশংসিত হলেও প্রাইভেসি ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে প্রযুক্তিবিদ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এশিয়া
অন্যান্য দেশের মতো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ভিয়েতনাম। এই বয়সের ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে পারলেও কোনো পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে না। এ ছাড়া গেম খেলার সময়সীমা দৈনিক সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তুরস্ক ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই বিষয়ে নতুন বিল পাস করেছে।
ইউরোপ
আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন পাস করছে ফ্রান্স। যুক্তরাজ্য ২০২৭ সালের মধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। অস্ট্রিয়া ১৪ বছর, ডেনমার্ক, গ্রিস, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ১৫ বছর এবং স্পেন ও জার্মানি ১৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আইনি বিধিনিষেধ ও জরিমানা আরোপের খসড়া বিল নিয়ে কাজ করছে।