জেন-জির উত্থান কি পশ্চিমা বিশ্বেও সংক্রমিত হবে

যুগান্তর সাকিব আনোয়ার প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২

বিশ্বরাজনীতির প্রতিটি যুগকে সংজ্ঞায়িত করেছে একেকটি প্রজন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ‘বেবি বুমারস’, স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী ‘জেনারেশন এক্স’, বিশ্বায়নের যুগের ‘মিলেনিয়ালস’-প্রত্যেকেই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু একুশ শতকের তৃতীয় দশকে এসে যে প্রজন্মটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, তারা হলো জেনারেশন জেড বা সংক্ষেপে জেন-জি, যাদের জন্ম ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। জেন-জি এমন এক প্রজন্ম, যারা ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বেড়ে উঠেছে। তারা রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত তথ্যের চেয়ে বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহে বেশি আস্থা রাখে। তারা দলীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে বেশি সোচ্চার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা বিশ্বের এক প্রান্তের আন্দোলন থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষা নিতে পারে এবং সেটিকে নিজেদের বাস্তবতায় প্রয়োগ করতে পারে।


গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় যে রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো ঘটেছে-শ্রীলংকার ‘আরাগালায়া’, বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, নেপালে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং ভারতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে জন্ম নেওয়া আন্দোলনটির ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার বার্তা-এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ কম। বরং এগুলো একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ। বলা যেতে পারে, দক্ষিণ এশিয়ায় জেন-জির রাজনৈতিক উত্থান কয়েক বছরের মধ্যে সংক্রমণের মতো ছড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো, এ ঢেউ কি পশ্চিমা বিশ্বেও বিস্তৃত হতে পারে?


কোনো প্রজন্মের রাজনৈতিক আচরণ নির্ধারিত হয় তাদের বেড়ে ওঠার সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ দ্বারা। জেন-জি সেই অর্থে একেবারেই ব্যতিক্রম। তারা এমন এক সময়ে বেড়ে উঠেছে, যখন বিশ্ব অর্থনীতি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কোভিড-১৯ মহামারি তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানসিক স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আয়-বৈষম্য এবং আবাসন সংকট তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার, ওইসিডি, বিশ্ব অর্থনীতি ফোরাম ও ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, জেন-জি প্রজন্মের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তারা প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথ খুঁজছে।


শ্রীলংকা : অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিক বিদ্রোহ : ২০২২ সালে শ্রীলংকার অর্থনীতি কার্যত ধসে পড়ে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফুরিয়ে যায়, জ্বালানি আমদানি বন্ধ হয়ে যায়, খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দেয় এবং দেশটি ইতিহাসে প্রথমবার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এ সংকটের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেটি ‘আরাগালায়া’ নামে পরিচিত। এর নেতৃত্বে কোনো একক রাজনৈতিক শক্তি বা নেতা ছিলেন না; বরং ছিল শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী, শিল্পী এবং সাধারণ নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল-বিকেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমনির্ভর সংগঠন; দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নাগরিক অংশগ্রহণ; দুর্নীতিবিরোধী জনমতকে কেন্দ্র করে ঐক্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলংকা দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ভেঙে গেলে তরুণরাই সবচেয়ে দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।


বাংলাদেশ : নাগরিক পরিচয় বনাম দলীয় রাজনীতি : বাংলাদেশে গত এক দশকে তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা দৃশ্যমানভাবে বদলেছে। নিরাপদ সড়ক, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসা, সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্য, গণতন্ত্রহীনতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ক্ষোভ একটা সময়ে গণবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও ক্রমেই তা রাষ্ট্রক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে। শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। গণ-আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এ গণ-আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল তরুণ সমাজ। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে জেন-জি। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক।


নেপাল : পুরোনো রাজনীতির প্রতি অনাস্থা : ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর নেপাল নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করলেও দেশটি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ছিল। এ পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা কমেছে। তারা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দক্ষ নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক সংস্কার চায়। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন নাগরিক উদ্যোগের গবেষণায় দেখা যায়, নেপালের তরুণ ভোটারদের বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের প্রতি আগ্রহী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করে। ফলস্বরূপ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির তরুণ ও ছাত্রসমাজ বিশেষ করে জেন-জির নেতৃত্বে ঘটে অভ্যুত্থান। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হন। এটি কোনো সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, বরং জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মের তীব্র ক্ষোভ থেকে তৈরি হওয়া একটি সফল গণ-আন্দোলন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও