স্থানীয় নির্বাচনে যেভাবে সেনা মোতায়েন চায় ইসি

কালের কণ্ঠ কাজী হাফিজ প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী  অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই বিধান চায় নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি  কমিশন এ বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত  করেছে।

কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, আইনগত এই ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রয়োজন বোধে কার্যকরভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া যাবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন দরকার এবং কী কারণে কারা এটি চায় না, তা বুঝতে ২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনটি স্মরণ করা যেতে পারে। সে সময় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ রাখা হয়েছিল। তার পরও নির্বাচন কমিশন বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায়  সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

কমিশনের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়, ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরো আশ্বস্ত করার জন্য সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক মুভমেন্ট ও জরুরিভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সুবিধার্থে  ঢাকা মহানগরীর ভেতরেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট ও পোস্তগোলা ক্যান্টনমেন্ট এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর ভেতর হালিশহর, দামপাড়া ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশ পাওয়া মাত্র সেনাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে অকুস্থলে গমন করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  নেবে। সেনা সদস্যদের সঙ্গে ১৬ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু তাতেও আপত্তি।

ক্ষমতাসীনরা মনে করলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকলে তাঁদের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ নির্বাচনী মাঠে সেনা সদস্যরা কে কতটা প্রভাবশালী, কে কোন দলের তা দেখেন না। চাপ সৃষ্টি হলো নির্বাচন কমিশনের ওপর। কমিশন সেই চাপে নতি স্বীকার করে জানাল, সেনাবাহিনী মূলত সেনানিবাসের অভ্যন্তরে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে অবস্থান করবে এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্র দখলের মহোৎসব চললেও রিটার্নিং অফিসাররা এ ধরনের কোনো অনুরোধ করেননি বা সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়নি।

জানা যায়, সে সময় সেনানিবাসের অভ্যন্তরেও ‘রিজার্ভ ফোর্স’  অপেক্ষায় রাখার ঘটনা ঘটেনি। তার আগে ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন আইনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর চার কম্পানি সেনা  চেয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দেয় কমিশন। কিন্তু কমিশনের ওই চাহিদা পূরণ হয়নি। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের অসহযোগিতা ও অমনোযোগিতাকে দায়ী করেন। সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনেরও অভিযোগ ওঠে। কারণ সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে,  ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য হইবে।’ কিন্তু তৎকালীন সরকার এই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে।


২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১২টি পৌরসভা এবং জাতীয় সংসদের হবিগঞ্জ-১ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের উপনির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটে। ওই নির্বাচনগুলোতে  সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও ড. হুদা কমিশন তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সে সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এ বিষয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েও জবাব পায়নি নির্বাচন কমিশন। এতে কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।


নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধারণা, নির্বাচনে কার্যকরভাবে সেনা মোতায়েন থাক তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার চায়নি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবে  গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বা সংসদ নির্বাচনের আইন সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আরপিওর ৮৭ অনুচ্ছেদে এই বিধান যুক্ত করা হয় যে  ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা না হয়েও নির্বাচনী অপরাধের  জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও