ক্ষমতার লড়াইয়ে ঘটছে রাজনৈতিক সহিংসতা, ২২ মাসে প্রাণ গেছে ২১৩ জনের
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে নরসিংদীর সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন পাঁচদোনা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আলম মিয়া। একই কারণে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা বাজার এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন হেসাখাল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সেলিম ভূঁইয়া। একই বছরের ২১ মার্চ চট্টগ্রামের খুলশীতে ইফতার বিতরণ ও ঈদ শুভেচ্ছা ব্যানার টানানো নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির দুই পক্ষ। সেদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ এপ্রিল ভোর রাতে মারা যান ছাত্রদল নেতা মো. জিহাদ।
চলতি ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনি ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। গত ২৩ মার্চ কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের হেমন্তগঞ্জ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩০ জন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে এমন অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং ক্ষমতার লড়াইয়ে তা বেড়েছে।
এক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরেক দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের চেয়ে একই দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই এখন প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে উঠেছে। প্রভাব বিস্তার, এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘাত বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।