১৫ বছর ঝুলে আছে কাজ, গুলশান-বনানী-বারিধারার মানববর্জ্য এখনো পড়ছে লেকে
রাজধানীর পরিবেশগত উন্নয়ন, জলাধার সংরক্ষণ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ২০১০ সালে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় রাজউক। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ১৫ বছরেও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পে ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
খনন, তীর সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আংশিক সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হলেও তা সমানভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কিছু এলাকায় উন্নয়নের প্রভাব দৃশ্যমান হলেও সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
এর মধ্যে বনানী কবরস্থান, নিকেতন-পুলিশ প্লাজা, বনানী ১১ নম্বর ব্রিজ, চেয়ারম্যানবাড়ী ও কড়াইল বস্তিসহ প্রায় সাতটি স্থান দিয়ে সরাসরি স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত মানববর্জ্য লেকে পড়ছে। এতে লেকের পানি কালো, দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য ও ব্যবহারযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
‘গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি ও কাঠামোগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষায়।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৩৪ ঘনমিটার লেক খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত খনন হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৭ ঘনমিটার, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৭ শতাংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী লেক খনন করা হলে এর সামগ্রিক অবস্থা আরও ভালো হতো। তবে বাস্তবে বনানী কবরস্থান থেকে বনানী ১১ নম্বর ব্রিজ এবং নিকেতন ব্রিজ থেকে গুলশান-মহাখালী লিংক রোড পর্যন্ত অংশে ২০১৮ সালে খননকাজ সম্পন্ন হয়। বনানী ও নিকেতন সংলগ্ন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কাজ সীমাবদ্ধ থাকায় লেকের বাইরের অংশগুলোতে প্রয়োজনীয় খনন করা হয়নি।