ভরা বর্ষায় দুর্গম পাহাড়ে ১২ দিনের অভিযানে গিয়েছিলেন ছয় বন্ধু, অভিজ্ঞতা কেমন
সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না, শুধু একটি ইচ্ছা ছিল—বর্ষার পাহাড়ে টানা কয়েকটা দিন কাটাব। বুনো ট্রেইল, পাহাড়ি ঝিরি, দুর্গম ঝরনা আর প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়ার জীবন কাছ থেকে দেখব।
সকালে আলীকদমে পৌঁছাই। নাশতা সেরে চান্দের গাড়িতে আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার পয়েন্টে নেমে শুরু হয় ট্রেকিং। পাহাড়ি চড়াই-উতরাই আর পিচ্ছিল ঝিরিপথে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা হাঁটার পর পৌঁছাই খুমি জনগোষ্ঠীর মাংলুং হেডম্যানপাড়ায়। আরও সামনে গিয়ে রাত কাটানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামায় বাধ্য হয়ে পাড়ার স্কুলেই আশ্রয় নিতে হয়।
পরদিন ভোরে পাড়ার কার্বারির ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করি। খোলে ঝিরি ধরে এগোতে এগোতেই চোখে পড়ে ছোট্ট বুনো খোলে ঝরনা। ঝরনার পাশে বসেই মুড়ি-চানাচুর মেখে দুপুরের খাবার সারি। একটু চা খেয়ে আবার পথচলা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভেজা ট্রেইল জোঁকে ভরা। খোলে ঝিরি, তিন্দু ঝিরি আর সেংসাং ঝিরি পেরিয়ে বিকেল চারটার দিকে পৌঁছাই পারিং পাড়া।