পাকিস্তানের গৃহবিবাদ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা

কালের কণ্ঠ ড. ফরিদুল আলম প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তান নিজেকে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন।

তাঁরা বাইরের সংকট মোকাবেলা করছেন যখন, তখন নিজেদের ঘর পুড়ছে। দেশটির সবচেয়ে বড় প্রদেশ, মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এলাকা নিয়ে বেলুচিস্তান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। নিজেদের স্বতন্ত্র মুদ্রা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং প্রশাসনিক কাঠামো সৃষ্টি করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। মোট ৫ লাখ সশস্ত্র যোদ্ধা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও দাবি করে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা পাকিস্তানের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবে বলে জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী নেতারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার নজির টেনে তাঁদের ঘোষিত নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টির বৈধতার পক্ষে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। 


উত্তাল বেলুচিস্তানের এই অস্থিরতায় বাড়তি প্রণোদনা হিসেবে রয়েছে দেশটির উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশ খাইবারপাখতুনখোয়া। দুর্গম, পাহাড়ি উপত্যকা, জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সেই সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই  অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুরক্ষায় বৈষম্য অঞ্চলটির জনতাকে ক্রমেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসিয়ে তুলেছে। এই অঞ্চলটির সবচেয়ে কৌশলগত ‘খাইবার গিরিপথ’ ভারতীয় উপমহাদেশ এবং মধ্য এশিয়ার মধ্যে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ ও সরু একটি পথ, যা অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দেশটির জন্য অনেক সম্ভাবনাময় হতে পারত, অথচ এটি এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান অবনতিশীল সম্পর্কের কারণে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জন্য বরাবরের একটি সহজ যাতায়াতের পথ হিসেবে খাইবারপাখতুনখোয়াসহ বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে বাড়তি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রসদ হিসেবে নিজেদের ব্যবহার করতে দিচ্ছে।


সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ নতুন করে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে। এটি শুধু এ কারণে নয় যে বেলুচিস্তান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ডাক দিয়েছে। এটি বরং এ কারণেই নিরাপত্তা শঙ্কার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক যে দিনে দিনে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে টিটিপির তৎপরতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি সঞ্চয় করেছে। এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে আমাদের জানা দরকার কী কারণে এবং কিভাবে এই শক্তি তারা অর্জন করতে সক্ষম হলো। এখানে বেলুচিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মূল সমস্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, খাইবারপাখতুনখোয়ার মতোই বেলুচিস্তানের মানুষও একইভাবে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বৈষম্যের শিকার।

অথচ পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনীতির জন্য বেলুচিস্তান হচ্ছে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। একদিকে পাকিস্তানের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েদার বন্দর, যা বেলুচিস্তানে, আরব সাগরের উপকূলে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) এবং চীন সরকারের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্প; অন্যদিকে এই প্রদেশটিতে রয়েছে মূল্যবান হীরা, সোনা, রুপা, তামা, গ্যাস ও কয়লার মতো মূল্যবান খনিজ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ। পাকিস্তানের মোট সীমান্তের ৪৪ শতাংশজুড়ে বেলুচিস্তানের আয়তন এবং জনসংখ্যার বিবেচনায় সবচেয়ে ছোট (মাত্র এক কোটি ৫০ লাখ) প্রদেশ হওয়া সত্ত্বেও সরকারের অব্যাহত বৈষম্যমূলক নীতির ফলে আজকের এই ফুঁসে ওঠা।


তবে এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে একটি বিষয় আলোচনার দাবি রাখে, আর সেটি হচ্ছে এই ফুঁসে ওঠার কারণ কতটা স্বতঃস্ফূর্ত আর কতটা বাইরের উসকানি এখানে কাজ করেছে। আমাদের এর আগে এটিও জানা দরকার যে বেলুচিস্তানের সঙ্গে ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে এবং ইরানের সিস্তান-বেলুচিস্তানের মধ্যকার চাবাহার বন্দর ওমান সাগরের তীরে ভারত ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, যার মাধ্যমে মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সহজতর হয়েছে। গোয়েদার বন্দরকে এড়িয়ে এই পথে বাণিজ্যের ফলে পণ্য পরিবহনে ৬০ শতাংশ এবং ৪০ শতাংশ সময়ের সাশ্রয় হয়। সুতরাং এই বিবেচনায় ইরান সংগত কারণেই চাইবে না বেলুচিস্তানের বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে পাকিস্তানকে চটিয়ে চাবাহার বন্দরের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে। বাকি রইল ভারত। এ ক্ষেত্রেও একই যুক্তি। তবে এখানে একটি কথা থেকে যায়, আর সেটি হচ্ছে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার পর থেকে ভারতের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আবার টিটিপি আফগান তালেবানেরই মদদপুষ্ট গোষ্ঠী। সুতরাং ভারতের দিক থেকে হয়তো বেলুচ বিদ্রোহীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করা হচ্ছে না, তবে পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও