বল নাকি খেলা দখল: আর্জেন্টিনার সামনে অন্য এক স্পেন

বিডি নিউজ ২৪ জয় প্রকাশ সরকার প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ২০:২৫

স্পেনের চিরন্তন ঐতিহ্য ‘ফ্ল্যামেনকো’ শুধু এক টুকরো সংগীত বা নাচ নয়; এ হলো তীব্র আবেগ আর নিখুঁত ছন্দের এক জাদুকরী যুগলবন্দি। ফ্ল্যামেনকো পারফর্মারদের পায়ের দ্রুত ও নিখুঁত কাজ, প্রতিটি লয়ের ওপর অখণ্ড নিয়ন্ত্রণ আর হুট করে গতি পরিবর্তনের সম্মোহন দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখে। তালের এই যে মসৃণতা এবং পুরো পরিবেশনজুড়ে যে সুশৃঙ্খল ছন্দ, ঠিক একই শিল্পের দেখা মেলে স্পেনের সবুজ ঘাসের বুকেও। স্প্যানিশ ফুটবল যেন মাঠের বুকে মঞ্চস্থ হওয়া আরেকটি ফ্ল্যামেনকো।


ফ্ল্যামেনকোতে যেমন প্রতিটি মুদ্রার পেছনে থাকে গভীর সাধনা, তেমনি স্প্যানিশ ফুটবলারদের পায়ে বলের দখল রাখা ও ক্রমে ক্রমে প্রতিপক্ষের ব্যূহে প্রবেশ করাটাও এক পরম নান্দনিকতা। ছোট ছোট, নিখুঁত পাসের বুননে তারা যখন মাঠজুড়ে বলের এক সম্মোহনী জাল বিস্তার করে, তখন প্রতিপক্ষ দিশেহারা হয়ে বলের পেছনে ছুটে ছুটে ক্লান্ত হতে থাকে। এই ফুটবল কোনো তাড়াহুড়োর গল্প নয়; এ যেন এক দীর্ঘ সুরের সাধনা, যেখানে বলের পজিশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি অবশ করে দেওয়া হয়। আর ঠিক মোক্ষম সময়ে, ফ্ল্যামেনকো নৃত্যের চূড়ান্ত ও তীব্র সমাপ্তির মতোই, নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে ম্যাচের জয় ছিনিয়ে আনা হয়। স্পেনের ফুটবল তাই কেবল একটি খেলা নয়, এ যেন বুট আর বলের ছন্দে বোনা এক চিরন্তন স্প্যানিশ সিম্ফনি।


স্পেনের এই নান্দনিক ফুটবল এমন একটি চিন্তার প্রতিফলন, যা দর্শনের মর্যাদা পায়। ‘টিকিটাকা’ নামের সেই দর্শনের সফল প্রয়োগ ২০১০ সালে স্পেন ফুটবল দলকে দিয়েছে অন্যতম বিশ্বসেরার মর্যাদা। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা শুধু দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও একটি বিশ্বকাপ বিজয়েই সীমাবদ্ধ নয়; তারা ফুটবলের ভাষাটাই বদলে দিয়েছিল। এর ফলে যেন পৃথিবী একযোগে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, বল যার পায়ে, ম্যাচও তার নিয়ন্ত্রণে।


২.


তবে ট্রফি জেতাই তো শেষ কথা নয়। সবচেয়ে কঠিন কাজ, নিজের আবিষ্কৃত একটি সফল দর্শনকে সময়ের সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখা। ইতিহাস বলে, প্রায় সব বড় ফুটবল বিপ্লবই একসময় নিজের সাফল্যের ভারে নুইয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষ শিখেছে, বিশ্লেষণ করেছে, পাল্টা কৌশল তৈরি করেছে। ফলে গতকালের বিপ্লব আজকের পাঠ্যবইয়ে জায়গা পেলেও মাঠে তার কার্যকারিতা কমে যায়। একসময় প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং শারীরিক তীব্রতা নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠল; সেই সঙ্গে টিকিটাকার সীমাবদ্ধতাগুলোও স্পষ্ট হতে শুরু করল। দীর্ঘ সময় বল দখলে রেখেও অনেক দল গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। শত শত পাসের পরও প্রতিপক্ষের ঘন রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে উঠছিল। তখন বোঝা গেল, বলের দখল নিজে কোনো গন্তব্য নয়; এটি কেবল একটি পথ।


এখানেই স্পেনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়। তারা কি নিজেদের ইতিহাস আঁকড়ে ধরে থাকবে, নাকি নিজেদের ইতিহাসকেই নতুন করে লিখবে? প্রশ্নটি শুধু ফুটবলীয় ছিল না, এটি ছিল সাংস্কৃতিকও; কারণ কোনো সভ্যতা, কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ধারণার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে তার সাফল্যের পরে। তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, অতীতকে স্মৃতিস্তম্ভ বানানো হবে, নাকি ভিত্তি বানানো হবে।


স্পেন দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে। এই কারণেই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামা স্পেনকে দেখে ২০১০ সালের দলের কথা মনে পড়লেও, তাদেরকে একই দল মনে হয় না। দর্শনের শিকড় একই, কিন্তু গাছটি বদলে গেছে। পুরোনো শেকড় নতুন ডালপালা তৈরি করেছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বদলে যাওয়া স্পেন।


স্পেনের এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় স্থপতি দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নতুন কোনো মতবাদ আবিষ্কার করেননি; বরং তিনি বুঝেছেন, একটি দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কখনও কখনও তার রূপান্তর জরুরি। বলের দখল থাকবে, কিন্তু সেটি আর আত্মতৃপ্তির বিষয় নয়। প্রতিটি পাসের একটি উদ্দেশ্য থাকবে, প্রতিটি আক্রমণের একটি গন্তব্য থাকবে এবং প্রতিটি অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের কাঠামো ভেঙে দেওয়া। স্পেনের নতুন ফুটবল এখান থেকেই শুরু।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও