অনলাইনে মাদক কেনাবেচায় মৃত্যুদণ্ড বিধানের ঝুঁকি

প্রথম আলো হাবিবুর রহমান প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ২০:২১

সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে সাইবার মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না।


আইনটির উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং সমাজকে এর ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা। কিন্তু আইনশাস্ত্র ও অপরাধবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব ও গবেষণা ভিন্ন কথা বলে। কেবল শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এই ধারণা যেমন ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তেমনি অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।


২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনেও মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, কঠোর শাস্তির ভয় মাদক ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।


কিন্তু বিগত সাত বছরের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সামগ্রিকভাবে মাদক ব্যবসা ও পাচারের বিস্তার কমার পরিবর্তে বরং বেড়েছে। অথচ নতুন সংশোধনীতে সেই একই নীতি সম্প্রসারণ করে অনলাইন মাদক-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হলো।


ফৌজদারি আইনকে কয়েকটি মৌলিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হয়, যেমন সামঞ্জস্যপূর্ণতা, প্রতিরোধমূলক কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ন্যায়সংগত বিচারপ্রক্রিয়া। অনলাইন মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের এই নতুন বিধান এই মানদণ্ডগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।


ফৌজদারি আইনের অন্যতম মৌলিক নীতি হলো, শাস্তি অপরাধের গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে মৃত্যুদণ্ড সংরক্ষিত থাকে ইচ্ছাকৃত প্রাণহানির মতো সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের জন্য। অথচ একটি অহিংস ও লেনদেনভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে একই শাস্তি প্রয়োগ করলে হত্যাকাণ্ড এবং অহিংস অপরাধের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায়।


জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি স্পষ্ট করেছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি রাষ্ট্রপক্ষ। তা ছাড়া এই আইন অপরাধীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পার্থক্য করে না। একটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের গডফাদার এবং আসক্তির কারণে অনলাইনে সীমিত পর্যায়ে বেচাকেনায় জড়িয়ে পড়া একজন ব্যক্তির অপরাধের মাত্রা ও দায় কখনোই এক হতে পারে না। সবাইকে একই কাতারে দাঁড় করানো ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।


অপরাধবিজ্ঞানে সর্বসম্মত স্বীকৃত একটা বিষয় হচ্ছে, অপরাধ প্রতিরোধে শাস্তির কঠোরতার চেয়ে ধরা পড়ার নিশ্চয়তা অনেক বেশি কার্যকর। সম্ভাব্য অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের ভয় নয়, বরং অপরাধ করলে নিশ্চিতভাবেই ধরা পড়তে হবে—এই বিশ্বাসই সবচেয়ে বেশি নিরুৎসাহিত করে।


কিন্তু অনলাইন মাদক ব্যবসায় ঠিক এই নিশ্চয়তাটিই সবচেয়ে দুর্বল। এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও পরিচয় গোপনকারী প্রযুক্তি তদন্তকে জটিল করে তোলে। যে ব্যক্তি ধরে নেয় যে সে ধরা পড়বে না, তার কাছে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো খুব কমই প্রভাব ফেলে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও