সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমরা কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছি, প্রশ্নটা এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকার, সমাজবিজ্ঞানী, সুশীল সমাজইবা এই বিষয়ে কতটা সচেতন, সেই প্রশ্নও উঠছে। অনেকেই কথায় কথায় বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ে ছেয়ে গেছে সমাজ, গোটা দেশ। সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা না গেলে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা মিথ্যা বলেন না। কিন্তু তাঁরা কতটুকু আন্তরিকতার সঙ্গে কথাগুলো বলেন, প্রশ্ন কিন্তু সেখানেও। কিংবা সামাজিক অবক্ষয় বলতে তাঁরা কী বোঝাতে চান বা নিজেরা বুঝেন, সেটাও প্রশ্ন। প্রশ্ন জন্মে ও থেকে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশ্নের উত্তর মেলে না।
সামাজিক অবক্ষয়ের আভিধানিক অর্থ ও উৎস সমাজবিজ্ঞানীরা হয়তো যেভাবে দিতে পছন্দ করেন বা করবেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তা হয়তো এতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না। কারণ, রাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর শিক্ষা, চিন্তা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। যেখানে সমাজের চেয়ে, দেশের চেয়ে দল বড় হয়ে থেকেছে যুগে যুগে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের জন্য যা বড় দুর্ভাগ্য হয়েছে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চার ফলাফলই যে সামাজিক অবক্ষয় তথা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সংকটের কারণ হয়, সেটা পরীক্ষিত সত্য। যাহোক, সাধারণ মানুষ কিন্তু সামাজিক অবক্ষয়ের উৎস ভালো বলতে পারেন, কারণ তাঁরা এই পরিস্থিতির কঠিন ও একমাত্র শিকার হন।