মিয়ানমারে কেন থামছে না জটিল সংঘাত
মিয়ানমারের বর্তমান সংকটকে কেবল গৃহযুদ্ধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করলে এর প্রকৃত চিত্র ধরা পড়ে না। এটি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল, দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুমাত্রিক সংঘাতগুলোর একটি, যেখানে একই সময়ে সামরিক জান্তা, গণতন্ত্রপন্থী প্রতিরোধ বাহিনী, বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন, আন্তর্জাতিক শক্তি, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি চক্র এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংকট এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা এবং সামাজিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির হিসাবে, অভ্যুত্থানের পর থেকে ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশজুড়ে ১২০০টির বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। এ কারণেই সংস্থাটি মিয়ানমারকে বিশ্বের সবচেয়ে খণ্ডিত সংঘাতের ক্ষেত্র এবং সবচেয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে।
মিয়ানমারের বর্তমান সংকটের শিকড় ২০২১ সালের অভ্যুত্থানেরও অনেক আগে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই কেন্দ্রের বামার নেতৃত্ব ও বিভিন্ন জাতিগত জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইনের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নেয়, আর কাচিন, কারেন, শান, চিন, রাখাইনসহ বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে।
১৯৯০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি জয়ী হলেও সামরিক জান্তা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০০৮ সালের সংবিধানের মাধ্যমে সংসদের ২৫ শতাংশ আসন, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংবিধান সংশোধনের ওপর ভেটো ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখে তারা ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ২০১১ সাল থেকে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু হলে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এই সময়ে এনএলডি ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় এবং অং সান সু চি স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে কার্যত দেশের নেতৃত্ব দেন।
- ট্যাগ:
- মতামত
- যুদ্ধ ও সংঘাত