হাম: সাড়ে সাত শ শিশুর মৃত্যু, না ‘সামাজিক হত্যা’
আমেনা বেগম পাঁচ মাসের সন্তান মো. তাকরিমকে বুকে জড়িয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন। ফিরেছিলেনও; তবে জীবিত নয়, মৃত তাকরিমকে নিয়ে। মায়ের সেই আর্তচিৎকার আমরা শুনেছিলাম, ‘বাবারে কিন্তু আমি বুকে নিয়া বাসায় যামু।’ মায়ের আক্ষেপ চলতে থাকে, ‘আমি তো বাবারে এমনে আনি নাই, এখন এমনে কেমনে নিয়া যামু’, ‘বাবা তো আমার কাছে আর আসব না’, ‘আল্লাহ কেন দয়া করল না’, ‘বাবা আমার আগে কেন চইল্যা গেল’, ‘বাবারে কত কষ্ট দিছি, বাবা মাফ কইরা দিয়ে।’
হাম আর কিছু জটিলতায় শিশু তাকরিমের প্রাণ যায় গত ৬ মে, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এর আগে অন্তত এক মাসের লড়াই চলে শিশুটিকে বাঁচাতে।
শিশুটির বাড়ি ভোলায়। অসুস্থ হওয়ার পর ভোলা সদর হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিকে ছোটাছুটি করেন শিশুটির বাবা–মা। সেখান থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল। ওই হাসপাতালে তাকরিমের অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে। প্রয়োজন হয় পিআইসিইউ বা শিশুর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের। সেই হাসপাতালে পিআইসিইউ না পেয়ে তাকে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই সবকিছু শেষ।
- ট্যাগ:
- মতামত
- হাম আক্রান্ত
- হাম রোগ