বিলাই–কুত্তা বৃষ্টিতে এক কেরানির জার্নি বাই ফুট

প্রথম আলো সারফুদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ২০:৩২

অফিস দশটায়। বাসা থেকে নয়টায় বেরোতে গেলাম। বাইরে চেয়ে দেখি, যে বৃষ্টি হচ্ছে, তাকে ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে’ গেয়ে সেলিব্রেট করাটা আঁতলামির চূড়ান্ত হবে। আকাশ ভাঙা বৃষ্টি যাকে বলে তাই হচ্ছে।


নষ্ট গাড়ি গ্যারাজে ঘুমাচ্ছে। অন্য যানে যেতে হবে। জানি বাসে উঠতে পারব না। পারলেও উঠব না। অধমের এক্সপিরিয়েন্স বলে, এই বর্ষণে বাসে উঠলে সেটা হিঁচড়ে হিঁচড়ে এক ঘণ্টায় মালিবাগ যাবে।


সেখানে এখন ‘কুল নাই কিনার নাই’ টাইপের অথই ‘সাগর’। সেই সাগরে ‘লাব্বাইক পরিবহন’ নূহের কিস্তি হয়ে কত ঘণ্টা ভাসবে আল্লাহ মালুম। সিএনজির ‘বুক সমান’ পানি। মতিঝিল, বিজয় নগর, খিলগাঁও, মালিবাগ, মগবাজারের থই থই পানি তাকে আগেই বলে দিয়েছে, ‘এদিকে বড়দের ব্যাপার। এদিকে আসিস না।’


সবকিছু ডুবার পরও উবার আছে ভেবে স্মার্টফোন হাতে নিলাম। দেখি সেখানেও ফাঁকা। কাছাকাছি তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো গাড়ি নেই।


তাহলে? পদব্রজেই হোক দুর্মর যাত্রা! বউ বলল, ‘ওরে, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে!’


দুই শিশুপুত্র রবিঠাকুরের ‘চারি বৎসরের কন্যাটির মতো’ ‘এতক্ষণ ছায়াপ্রায় ফিরিতেছিল মোর কাছে কাছে ঘেঁষে/চাহিয়া দেখিতেছিল মৌন নির্নিমেষে বিদায়ের আয়োজন।’ এই প্রবল ধারা দেখে তারাও অব্যক্ত ভাষায়, ‘কহিল বিষণ্ন-নয়ন ম্লান মুখে, “যেতে আমি দিব না তোমায়। ” ’


তবু যেতে দিতে হলো। রাস্তায় নামলাম। সেকি বৃষ্টি! ছাতায় বড়জোর মাথা বাঁচানো যাবে। যে রিকশার দিকে চাই, সে-ই এপাশ-ওপাশ মাথা নাড়ে। অনেকক্ষণ পর এক রিকশা পেলাম। ব্যাটারিচালিত। কোমর পানির দরিয়া পার হতে গিয়ে ইঞ্জিন ফেল করল।


ধরলাম হাঁটা। লাজলজ্জার মাথা খেয়ে প্যান্ট তো আগেই গুটিয়েছি। ‘ডু ইন রোম অ্যাজ রোমানস ডু’।


হাঁটার জায়গা মানে ফুটপাতে এখন কাদা আর কাদা। কারণ সিটি করপোরেশনের কাজ চলছে। অসহায় ক্রোধে মন তেতে উঠল।


মনে মনে বৃষ্টিকে বললাম, ‘হা রে হতভাগা! সিটি করপোরেশন যে প্রতিবছর এই ভর শ্রাবণে রাস্তা খুঁড়ে খুঁড়ে এডিপির বরাদ্দ বের করে আনে তা তুই জানিস না! বয়েস কি তোর সিটি করপোরেশনের চেয়ে কম? নামতে হয় তো পৌষ-মাঘ দেখে নাম না! তোকে মানা করছে কে?’


সামনে যতই এগোচ্ছি ততই চোখে পড়ছে, ‘উন্নয়নকাজ চলিতেছে! সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত!’ বুঝলাম কথাটা আমাকেই বলা হচ্ছে।


নিজেকে বড় কেউকেটা মনে হলো। করপোরেশন আমার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছে! আহারে! আব্বা যদি বেঁচে থাকত। লোকটা দেখে যেতে পারত তাঁর ছেলের কী হ্যাডম!


অল্প কিছু পথ পেরোতেই চামড়ার স্যান্ডেল ফুলে ঢোল। না এটা পায়ে দিয়ে হাঁটতে পারছি, না হাতে নিয়ে চলতে পারছি। এর মধ্য দিয়েই মনে হলো—এই পথে ‘ছেঁড়া ছাতা-রাজছত্র মিলে চলে গেছে’ সোজা কারওয়ান বাজারের দিকে।


বৃষ্টি প্লাবিত সেই পথে কী নেই? ‘আমের খোসা ও আঁটি, কাঁঠালের ভূতি, মাছের কানকা, মরা বেড়ালের ছানা, ছাইপাঁশ আরও কত কী যে!’ কোথাও কোথাও বেহুলার ভেলার মতো ভেসে যাচ্ছে মানুষের পাকস্থলিজাত সেই আদি ও অকৃত্রিম জিনিস।


এর মধ্যেই মনে আসছে, ‘ব্রাহ্মণ চণ্ডাল চামার মুচি, এক জলে সকলে শুচি’ টাইপের সাম্যবাদী সংগীত।


রবীন্দ্র-লালন করতে করতে আর ফাঁকে ফাঁকে নিজের বাপের নাম মনে আছে কি না, তা খেয়াল রাখতে রাখতে মৌচাকে পৌঁছালাম।


বৃষ্টি নামল আরও জোরে। আকাশ সহস্রলোচনা হয়ে উঠল। তার হাজার চোখ বেয়ে নামল প্রবল অশ্রুধারা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও