পাহাড়ধস ও প্রাণহানি রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

কালের কণ্ঠ মোহাম্মদ সফি উল্যাহ প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জেলাগুলোতে পাহাড়ধস এখন আর শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত ও মানবসৃষ্ট প্রাণঘাতী ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। গত এক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে বনায়ন ধ্বংসের ফলে পাহাড়গুলোর মাটির অভ্যন্তরীণ বাঁধন সম্পূর্ণ আলগা হয়ে পড়েছে।

ফলে বর্ষা এলেই অপরিকল্পিত বসতি আর কম ভাড়ার মারণফাঁদে থাকা শত শত দরিদ্র মানুষের ওপর আছড়ে পড়ছে পাহাড়ি ধস, কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মিছিল থামাতে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন করতে স্থির ও পুরনো ডেটাভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বাস্তব সময়ভিত্তিক গতিশীল ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পুনর্বাসনে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় ও কারিগরি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়গুলোর গঠনশৈলী সমতলের চেয়ে একদম আলাদা। এই পাহাড়ের মাটি মূলত অসংলগ্ন বেলেপাথর, পলি ও দো-আঁশ মাটির মিশ্রণে গঠিত, যা ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত ভঙ্গুর।

শুষ্ক মৌসুমে এই মাটিতে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয় এবং বর্ষা মৌসুমে যখন দীর্ঘস্থায়ী অতিভারি বর্ষণ ঘটে, তখন ওই ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে মাটি অতিরিক্ত ভারী হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটির ভেতরের সংহতি শক্তি বা বাঁধন সম্পূর্ণ আলগা হয়ে আস্ত পাহাড়ের ঢাল নিচে ধসে পড়ে। এই প্রাকৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে গত কয়েক দশকে যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, নির্বিচারে বনায়ন ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ।


পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে সংঘটিত ভূমিধসের ঘটনাগুলোর প্রায় ৮৩ শতাংশই ঘটে থাকে বর্ষাকালীন মৌসুমে জুন থেকে আগস্ট মাসের অতিবৃষ্টির সময়। গত এক দশকের বিভিন্ন প্রকাশনার তথ্যানুযায়ী, বছরভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। যেমন—২০১৫ সালের জুন-জুলাইয়ে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধস ও ঢলের কারণে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারায়। ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের মতিঝর্ণা এবং নাজির পাহাড় এলাকায় পাহাড় ও সীমানাপ্রাচীর ধসে ছয়জন নিহত হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর মোট ২৩টি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৩৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়।


এরপর ২০১৭ সালের ১৩ জুন বাংলাদেশ ইতিহাসের ভয়াবহতম ভূমিধস বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, যখন রাঙামাটিতে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে একযোগে পাঁচটি জেলার ১৪৫টি স্থানে ভূমিধস ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় পাঁচজন সেনা সদস্যসহ মোট ১৬০ জন নিহত এবং ১৮৭ জন আহত হয়, যার ফলে প্রায় ছয় হাজার বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় এবং ৮০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


পরবর্তী সময়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরের ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে কক্সবাজার অঞ্চলে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান ও চট্টগ্রামে নিয়মিত বিরতিতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালের ১১-১২ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে ১১ জন, ৩ জুলাই বান্দরবানের লামায় চারজন এবং ২৫ জুলাই কক্সবাজারের রামুতে পাঁচজনসহ মোট ২৫ জন মারা যায়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে মাত্র ৭২ ঘণ্টায় ১৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতে ২৬টি ধসের ঘটনা ঘটে, আর পুরো বর্ষা মৌসুমে মোট ১৭ জন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়।


২০২০ সালে করোনা মহামারির লকডাউনের মধ্যে অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধস ঘটলে রোহিঙ্গা শিবিরে ১৪ জন নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়। ২০২১ সালের জুলাই ও আগস্টের শেষ ভাগে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের ফলে ২৬ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়। ২০২২ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় চারজন, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে চারজন নারী শ্রমিক এবং কক্সবাজারের রামুতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট ১৩ জন প্রাণ হারায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও