দেশে কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী: ৫ কারণে কমেছে আসা
দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থী আসা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশে বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি ও অন্যান্য খরচ কম। প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান ও গ্রহণযোগ্যতায় ঘাটতি, সেশনজট, র্যাংঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ মূলত পাঁচ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
ইউজিসি বলছে, কীভাবে দেশে বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩-এ। এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গত বছরের মার্চে। ২০২২ সালে দেশে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বর্তমানে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৪৫৯ জন। আগের বছর (২০২২ সাল) ছিল ১ হাজার ৯১৭ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি শিক্ষার্থী কমেছে ৪৯৮ জন বা ২৫ শতাংশের বেশি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত শুক্রবার ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে ইউজিসির এক সভায় আলোচনা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে কমিশন। শিগগির বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করে একটি কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। লক্ষ্য হলো, আঞ্চলিক শিক্ষা হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানো।