শহীদ জিয়া শিশুপার্ক: স্বপ্নপুরীতে দুঃস্বপ্নের দৈত্য
১৯৮০ সালের তুমুল জনপ্রিয় শিশুতোষ বাংলা ছায়াছবি ‘ছুটির ঘণ্টা’র জনপ্রিয় একটি গান ‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’। একদল শিশু আর বিখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচকে নিয়ে এই গানের দৃশ্যটির শুটিং হয়েছিল তখনকার ঝকঝকে নতুন এই পার্কে। তখনো অনাবশ্যক আড়ম্বরের মুখ না দেখা সাদাকালো যুগের বাংলাদেশে শাহবাগের ছিমছাম শিশুপার্কটি ছিল সত্যিই শিশুদের স্বপ্নপুরী।
সারা দেশের শিশুদের স্বপ্নের এই পার্কের কপালে একসময় শুরু হয় দুঃস্বপ্নের প্রহর। বছরের পর বছর কাটলেও তা শেষ হচ্ছে না। রূপকথার গল্পে শিশুদের বাগানে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল হিংসুক দৈত্য। আর বাস্তবে অদক্ষতা, দুর্নীতি, অবহেলার অশুভ দানো মিলে আটকে রেখেছে শহীদ জিয়া শিশুপার্কের সংস্কারকাজ। এক বছরের কাজ শেষ হয়নি সাত বছরেও।
শুরু থেকে এ পর্যন্ত
প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৯ সালে পর্যটন করপোরেশনের অধীনে ১৫ একর জমির ওপর স্থাপিত হয়েছিল শিশুপার্কটি। ১৯৮৩ সালে তৎকালীন ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয় এটি। তখন এর পরিচয় ‘ঢাকা শিশুপার্ক’ নামে। বেশ পরে, ২০০২ সালে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা তখনকার ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়ে পার্কের নামকরণ করেন ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’। এরপর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হওয়ার পর ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে এর নাম বদল করে রাখা হয় ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শিশুপার্ক’। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডিএসসিসি ‘শহীদ জিয়া শিশুপার্ক’ নামটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতিমধ্যে নানা কারণে এককালের ঝকঝকে তকতকে পার্কটি তার জৌলুশ অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল। তারপরও রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থান ও পারিবারিক বিনোদনের জায়গার গুরুতর অভাবের মধ্যে পার্কটি ছিল মধ্যবিত্তের পছন্দের জায়গা। এর আসল দুর্গতি শুরু হয় ২০১৯ সালে।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- শিশু পার্ক
- সংস্কার কাজ