শিশুর নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে অভিভাবকের করণীয়
বর্তমানে শিশুকিশোরদের পড়াশোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ইন্টারনেট। স্কুলের প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, তথ্য খোঁজা কিংবা অনলাইন ক্লাস—সবকিছুতেই এর প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বন্যা, মহামারি বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই।
তবে প্রয়োজনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক শিশু গেম, কার্টুন বা বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্টে আসক্ত হয়ে পড়ে। ফলে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় অনলাইনে কাটায়। এর প্রভাব পড়ে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে। শুধু তাই নয়, অনলাইনে তারা নানা ধরনের অনিরাপদ পরিস্থিতি, ভুয়া তথ্য, সাইবার বুলিং কিংবা অনুপযুক্ত কনটেন্টের মুখোমুখিও হতে পারে।
তাই শিশু যেন নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সঠিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শেখে, সে জন্য অভিভাবকের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা
আজকের দিনে ইন্টারনেটকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তাই শিশুর জন্য ঘরেই নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
পরিবারে আগে থেকেই ঠিক করে নিন, কখন, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করবে। সম্ভব হলে ড্রইংরুম বা পরিবারের সবার চোখের সামনে থাকা জায়গায় ডিভাইস ব্যবহার করতে দিন। পড়াশোনার প্রয়োজন ছাড়া অকারণে দীর্ঘ সময় মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করুন।
খাওয়ার সময় পরিবারের সবাই মোবাইল, ট্যাব, টেলিভিশন বা অন্য কোনো ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। একইভাবে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শোবার ঘরকে ডিভাইসমুক্ত রাখাও ভালো অভ্যাস।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে চলুন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
- ০–২ বছর: কোনো ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার নয়।
- ২–৫ বছর: দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা।
৬ বছর বা তার বেশি: প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সময় স্ক্রিন ব্যবহার, তবে নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।
- ট্যাগ:
- লাইফ
- নিরাপদ ইন্টারনেট
- শিশুর বেড়ে উঠা