তরুণ নেতৃত্ব সামনে এলেই দেশের সম্ভাবনা তৈরি হবে

প্রথম আলো আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৪

শিক্ষাবিদ ও সমাজবিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর রচনা স্বদেশভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ মুক্তিসংগ্রাম, কালের যাত্রার ধ্বনি, নৈতিক চেতনা: ধর্ম ও মতাদর্শ, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য।  ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর ৮৩তম জন্মদিনে প্রথম আলোয় এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে তাঁর স্বদেশ, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি ভাবনার একটি পরিচয় পাওয়া যায়। আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাক্ষাৎকারটি আবারও প্রকাশিত হলো।


৮২ বছর পেরিয়ে আজ ৮৩-তে পা রাখলেন। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জন্মদিনে আপনার অনুভূতিটা জানতে চাই।


আবুল কাসেম ফজলুল হক: জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। বন্ধুস্বজনেরা অনুষ্ঠান করে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি কখনো এ ধরনের আয়োজনে সম্মতি দিই না। তবে ঘরোয়াভাবে একটা আয়োজন থাকছে। আমরা যেহেতু দেশ, জাতি, জনজীবন, রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করি, সেহেতু সেই আয়োজনে এসব বিষয়েও কিছু কথা বলব। আমার সারা জীবনের লেখালেখির উদ্দেশ্য দেশ ও জনগণের কল্যাণ। জন্মদিনে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি হচ্ছে, যাঁরা দেশ-জাতি–মানুষ  নিয়ে চিন্তা করেন, কাজ করেন, তাঁরা যেন আমার বইগুলো পড়েন এবং এসব লেখা যদি তাদের কিছুটা কাজে লাগে তাতে সার্থকতা অনুভব করব।


আপনি শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসেবে সব সময় মানুষকে জাগাতে চেয়েছেন। কতটা পেরেছেন। হতাশা বোধ করেন কী?


আবুল কাসেম ফজলুল হক: মানুষের জীবন নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতিতে অনেকে হতাশ হতে পারে। কিন্তু সাধারণভাবে মানবজাতির ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে মানুষ অনেক সময়ই সংকটে পড়ে। আবার সেই সংকট অতিক্রম করে ভালো অবস্থানে যাওয়ার জন্য প্রথমে কিছু মানুষ চেষ্টা শুরু করে। পরে বহু মানুষ তাতে যুক্ত হয়। সংকটও কেটে যায়। কিন্তু জীবনধারার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক সংকট কেটে গেলে আরেক সংকট সামনে আসে। সমস্যার সমাধান করে যাওয়াই মানুষের কাজ।


বর্তমান বিশ্বে যে সংঘাতময় বাস্তবতা বিরাজ করছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে কীভাবে?


আবুল কাসেম ফজলুল হক: জীবন–জীবিকার প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি পরিশ্রম করছে, আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনেক সুফল মানুষ পেয়েছে। এসব কারণে প্রতিটি রাষ্ট্রেই সম্পদ অনেক বেড়েছে। গোটা পৃথিবীতে মানুষের খাওয়া-পরার মতো সমস্যার সমাধান অনেকটাই  সম্ভব হয়েছে। যদি এখন গোটা বিশ্বে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যেত তাহলে সব মানুষ সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে মানবজাতি সেই দিকে এগোচ্ছে না।


কয়েক দশক ধরে যে শীতল যুদ্ধ চলছিল, ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে তার অবসান হয়েছে। কিন্তু এরপরও যুদ্ধ-সংঘাত থেমে নেই। উপসাগরীয় যুদ্ধ, বসনিয়া–হার্জেগোভেনিয়া যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ, লিবিয়া যুদ্ধ এবং সব শেষে ইউক্রেন যুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। এদিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে, বৃহৎ শক্তিগুলো, যাদের আমরা উন্নত বিশ্ব বলে থাকি, তারা অর্থনৈতিক বা সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হলেও মানবিক দিক থেকে একটুও অগ্রসর হয়নি। মন–মানসিকতা সেই প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে রকম বৈরিতাপূর্ণ ছিল, সে রকমই রয়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে পশ্চিমাদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ছিল। আবার পুতিন যে পথ নিয়েছেন,  তা–ও ভুল বলে মনে করি।


এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান সংকট কী বলে মনে করেন?


আবুল কাসেম ফজলুল হক:  রাজনৈতিক সংকটটাকেই প্রধান বলব। তবে এখানে সাংস্কৃতিক সংকটও আছে। অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনে মানুষ নানাভাবে কাজ করছে। যেকোনোভাবেই হোক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের দরকার ছিল। বাংলাদেশে প্রথম থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংহত করা যায়নি। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে করা যায়নি। বেশ কিছু আসনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের জোর করে হারানো হয়েছে। এ নির্বাচনের কয়েক মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন হয়েছিল।


সেই নির্বাচনের দায়িত্বে আমরা ছিলাম। হলগুলোর ফলাফল তৈরি হয়ে গিয়েছিল, ডাকসুর ফলাফলও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল—সে সময় ছাত্রলীগের কিছু ছেলে কলাভবনের যেখানে ভোটগণনা চলছিল, সেখানে এসে ব্যালট বাক্স নিয়ে যায়। যে কাগজে আমরা ফলাফল তৈরি করছিলাম, সেগুলোও নিয়ে যায়। এ ঘটনাকে শুধু ছাত্রলীগের সমস্যা দেখলে চলবে না। এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও দায় ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দায় তৎকালীন সরকারের। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিকে কতটা প্রভাবিত করত?


আমি মনে করি, সেই নির্বাচনটা সুষ্ঠু করার প্রয়োজন ছিল। পাকিস্তান আমলে ডাকসুর নেতারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা সুসংহত করতে পারেনি। সবখানেই বিশৃঙ্খলা ছিল। এরপর সেনাশাসন জারি হলো। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও