মানসিক স্বাস্থ্য : নীরব সংকট থেকে হোক জাতীয় অগ্রাধিকার

ঢাকা পোষ্ট ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা সংক্রামক রোগের কথাই বেশি উঠে আসে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা, নীতি, আইন, কর্মকৌশল গঠিত হলেও বিষয়টি নানা কারণে পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে পারেনি। অথচ সুস্থ, আধুনিক ও সভ্য সমাজ গঠনের জন্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৯ অনুযায়ী, দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এবং প্রতি আটজন শিশুর একজনের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।


সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো চিকিৎসার বিশাল ঘাটতি। জরিপ অনুযায়ী, আগে থেকে মানসিক রোগ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকার হার ৯১ শতাংশ। এই চিত্র আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে।


কেন এই বিপুল সংখ্যক রোগী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না তার নানাবিধ কারণ রয়েছে, মানসিক রোগ নিয়ে ভ্রান্ত বিশ্বাস, অপচিকিৎসার প্রকোপ, মানসিক রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা, চিকিৎসার সহজ প্রাপ্যতা না থাকা, প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্ট)-এর ঘাটতি ইত্যাদি।


আরেকদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সমস্যার হারও বাড়ছে। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২০ শতাংশ। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক বৈষম্য, নারীর প্রতি সহিংসতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ২০১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী শহর ও গ্রামের মধ্যে মানসিক সমস্যার প্রকোপে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই। একইভাবে ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যেও এই সমস্যার বিস্তার প্রায় সমান। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা অঞ্চলের সমস্যা নয়। এটি পুরো সমাজের বাস্তবতা।


বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র সাড়ে চারশোর মতো। মনোবিজ্ঞানীর সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক দুই এবং মনোবিজ্ঞানী শূন্য দশমিক তিন।


প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য নার্স, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার, ক্লিনিকাল সোশ্যাল ওয়ার্কার, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টসহ অন্যান্য পেশাজীবীরও বড় ঘাটতি রয়েছে।


দেশে বর্তমানে বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল মাত্র দুটি। পাবনা মানসিক হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। এছাড়া কয়েকটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে মনোরোগ বিভাগ থাকলেও সেগুলোর সক্ষমতা সীমিত। ফলে রাজধানীর বাইরে অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা সহজে পান না।


বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে মানসিক স্বাস্থ্য আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যা শতবর্ষের পুরোনো লুনেসি আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে। ২০২২ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি এবং ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা অনুমোদন পেয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও