ব্রেন ড্রেইন: কেন মেধা দেশ ছাড়ে?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭

একসময় বিদেশে পড়তে যাওয়া বা কাজ করতে যাওয়াকে ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই গল্পের একটি নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে—ফিরে না আসার প্রবণতা। বাংলাদেশের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক এবং উদ্যোক্তা উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত সুযোগের সন্ধানে বিদেশে যাচ্ছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, তাঁদের একটি বড় অংশ আর দেশে ফিরতে চাইছেন না। ফলে ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি নীরবে ঘটছে আরেকটি প্রক্রিয়া—দেশ থেকে মেধার ধারাবাহিক বহির্গমন, যাকে অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণায় বলা হয় ‘ব্রেন ড্রেইন’।


এই বিষয়টি নিয়ে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা দিয়ে ভাবা প্রয়োজন। মানুষ কেন দেশ ছাড়ে, তার উত্তর কেবল বেশি বেতন নয়। উন্নত গবেষণার সুযোগ, পেশাগত স্বাধীনতা, মেধার মূল্যায়ন, উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের মতো নানান বিষয় একজন দক্ষ মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে। তাই ব্রেন ড্রেইন কেবল শ্রমবাজারের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতারও একটি সূচক।


বিশ্বায়নের যুগে দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক চলাচল স্বাভাবিক। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে বিশ্বের সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করার নীতি গ্রহণ করেছে। তাদের অভিবাসন নীতিতে উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনশক্তির জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। কারণ তারা জানে, প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে জ্ঞান ও উদ্ভাবনই আধুনিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সম্পদ।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির উপস্থিতি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। তাঁরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেন, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সেতুবন্ধন তৈরি করেন। বিশ্বের বহু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই অর্জন গর্বের।


কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। যখন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষ শিক্ষক সংকটে ভোগে, হাসপাতালগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব অনুভব করে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবী গবেষক ধরে রাখতে পারে না কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেরা প্রকৌশলীরা বিদেশে স্থায়ী হয়ে যান, তখন সেটি ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি জাতীয় ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। কারণ একটি রাষ্ট্র যে মানবসম্পদ গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল বিনিয়োগ করে, তার সুফল শেষ পর্যন্ত অন্য দেশের অর্থনীতি ভোগ করে।


অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতা মূলত মেধার প্রতিযোগিতা। যে দেশ দক্ষ মানুষ ধরে রাখতে পারে, সেই দেশই উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড কিংবা ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর উন্নয়নের পেছনে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে মানবসম্পদের অবদান অনেক বেশি। তারা শুধু মেধাবীদের বিদেশে যাওয়া কমায়নি; বরং বিদেশে থাকা নিজেদের গবেষক ও উদ্যোক্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ নীতি গ্রহণ করেছে।


বাংলাদেশে ব্রেন ড্রেইনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের সীমিত পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা তহবিল তুলনামূলকভাবে কম, আধুনিক গবেষণাগারের অভাব রয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতার সুযোগও সীমিত। একজন তরুণ গবেষক যদি দেখেন যে বিদেশে তিনি উন্নত ল্যাব, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাবেন, তাহলে তাঁর সিদ্ধান্ত অনুমান করা কঠিন নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও