জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নামে যে মৌলের নাম
পর্যায় সারণির ১১২ নম্বর মৌল কোপার্নিসিয়াম। কোপার্নিসিয়াম পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ের এবং ১২ নম্বর গ্রুপের একটি অতি ভারী, কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌল। এটি এমন একটি মৌল, যা প্রথাগত ধাতুর চেয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী আচরণের জন্য বিজ্ঞানীদের কাছে বেশ কৌতূহলের কারণ। ১৯৯৬ সালে জার্মানির ডার্মস্টাড শহরে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর হেভি আয়ন রিসার্চের বিজ্ঞানী সিগুর্ড হফম্যান এবং তাঁর দল প্রথম এই মৌলটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞানীরা দুই সপ্তাহ ধরে একটি ভারী আয়ন ত্বরক যন্ত্রে লেড-২০৮ লক্ষ্যবস্তুকে জিংক-৭০ আয়ন দিয়ে আঘাত করেন। জিংক আয়নগুলোর গতিবেগ ছিল সেকেন্ডে ৩০ হাজার কিলোমিটার। এই প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে কোপার্নিসিয়ামের ২৭৭ ভরের আইসোটোপ তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত অস্থায়ী ছিল, যার অর্ধায়ু ছিল মাত্র ০.২৪ মিলিসেকেন্ড। এরপর এটি আলফা কণা নির্গত করে ডার্মস্টাটিয়াম-২৭৩-এ রূপান্তরিত হয়।