ডেঙ্গু: অর্থনীতিরও নীরব বোঝা

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৭

বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি সংক্রামক রোগের নাম নয়; এটি ক্রমেই জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন—এই তিনের মিলিত সংকটে পরিণত হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ডেঙ্গুকে রাজধানীকেন্দ্রিক এবং বর্ষাকালের একটি মৌসুমি সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনঘনত্ব বৃদ্ধি এবং দুর্বল নগর ব্যবস্থাপনার কারণে সেই ধারণা বদলে গেছে।


এখন বছরের বিভিন্ন সময়েই দেশের নানা জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। হাসপাতালের শয্যা ভরে যাচ্ছে, চিকিৎসকের ওপর চাপ বাড়ছে, পরিবারগুলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ছে। অথচ আমাদের জনপরিসরের আলোচনা এখনো মূলত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। খুব কমই আলোচনায় আসে—ডেঙ্গুর প্রকৃত মূল্য কত? এই রোগ দেশের অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে? একটি পরিবারের আয়, সঞ্চয়, উৎপাদনশীলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর এর প্রভাব কত গভীর?


ডেঙ্গুর অর্থনৈতিক ক্ষতি বোঝার জন্য প্রথমেই বুঝতে হবে, একটি রোগ কখনোই কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়। একজন কর্মক্ষম মানুষ অসুস্থ হলে শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবার, কর্মস্থল, এমনকি রাষ্ট্রও ক্ষতির মুখে পড়ে। অর্থনীতিতে একে বলা হয় 'Cost of Illness'—অর্থাৎ একটি রোগের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যয়ের সমষ্টি। প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি, যাতায়াত ও পরিচর্যার খরচ। আর পরোক্ষ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে কর্মঘণ্টা হারানো, উৎপাদন কমে যাওয়া, পরিবারের অন্য সদস্যের কর্মবিরতি, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর আনুমানিক ১০ থেকে ৪০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, যদিও এর একটি বড় অংশ শনাক্ত হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এডিস মশার বিস্তৃতি নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু দেশেও এখন নিয়মিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।


বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাস খুব পুরোনো নয়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে এটি বড় আকারে নজরে আসে। এরপর ২০০০ সালে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাব ঘটে। কিন্তু ২০১৯ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং পরবর্তী কয়েক বছরের ধারাবাহিক সংক্রমণ প্রমাণ করেছে যে ডেঙ্গু আর সাময়িক সংকট নয়। বরং এটি আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর বাইরেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেখাচ্ছে যে রোগটির ভৌগোলিক চরিত্র বদলে যাচ্ছে। অর্থাৎ এখন এটি শুধু নগর নয়, জাতীয় অর্থনীতিরও সমস্যা।


বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি হলো—চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়। সরকারি হাসপাতাল থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, অতিরিক্ত সেবা কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পরিবারকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই ব্যয় অনেক সময় হঠাৎ করেই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যায়।


একজন সাধারণ ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রেই চিকিৎসকের পরামর্শ, এনএস১ পরীক্ষা, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, নিয়মিত প্লাটিলেট পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, পুষ্টিকর খাবার এবং যাতায়াত বাবদ কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হয়ে যায়। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আইসিইউ বা জটিল চিকি


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও