গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বরাজনীতির বাস্তবতা

ঢাকা পোষ্ট অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার দত্ত প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩১

প্রতি বছর ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। ১৭৭৬ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা কেবল একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্মই দেয়নি; বরং আধুনিক গণতন্ত্র, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাংবিধানিক শাসন এবং মানবাধিকারের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।


২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। আড়াই শতকের এই যাত্রা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়, যেখানে স্বাধীনতার আদর্শ, অর্থনৈতিক উদ্ভাবন, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক কূটনীতির সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র আজও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি।


দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বরাজনীতিতে শুধু একটি পরাশক্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠন, মুক্তবাণিজ্য, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করে। মার্শাল পরিকল্পনার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ পুনর্গঠনে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিক সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।


স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উচ্চারিত ‘সব মানুষ সমানভাবে সৃষ্ট’ এই নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদর্শনের মূল ভিত্তি। যদিও এই আদর্শ বাস্তবায়নের পথে দেশটিকে দাসপ্রথা, বর্ণবৈষম্য, নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবুও আত্মসমালোচনা ও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এই আত্মসংশোধনের ক্ষমতাই দেশটির অন্যতম শক্তি।


অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অবদান অনস্বীকার্য। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির একটি হিসেবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা, জৈবপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী পরিবেশ আন্তর্জাতিক মেধাকে আকৃষ্ট করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বরং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক ভূমিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব। ন্যাটো জোটের মাধ্যমে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্যাকসিন গবেষণা, চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতায়ও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও