পঞ্চদশ সংশোধনী: ‘দিনের আলোয়’ পাস হওয়া যে বিল রাজনীতিতে নামিয়েছিল অন্ধকার
২০১১ সালের ৩০ জুন, বেলা ১০টা ৫০ মিনিট। জাতীয় সংসদের সভাকক্ষ তুমুল করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। এর ঠিক আগেই আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের সংসদ সদস্যদের ভোটে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে গেছে। তাকে স্বাগত জানিয়েছিল সেই করতালি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আওয়ামী লীগের সেই পদক্ষেপ বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশে নির্বাচনের গতিপথ। এই ভোটের মাধ্যমে ফিরে আসে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের যুগ, যা দেশের রাজনীতিতে পরবর্তী দেড় দশকের সংকটের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পরের ইতিহাস সবারই জানা। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে রেখে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে দেশে তিনটি নির্বাচন হয়, যার সব কটিই ছিল বিতর্কিত। অথচ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না, এই দাবি তুলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলনেই তিন দশক আগে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল সংবিধানে।
পরপর দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে হওয়ার পর ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি কে এম হাসানকে নিয়ে আপত্তি তোলে আওয়ামী লীগ। যুক্তি দেখানো হয়, তিনি একসময় বিএনপিতে যুক্ত ছিলেন। এরপর টানা হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার পর দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়, ক্ষমতায় আসে সেনাসমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর নির্বাচনে ক্ষমতায় যায় আওয়ামী লীগ।