একাকী বার্ধক্য: পরিবার আছে কিন্তু সঙ্গ নেই

www.ajkerpatrika.com হাসান আলী প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

একসময় মানুষের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ছিল পরিবার। বার্ধক্যে পৌঁছালে সন্তানসন্ততি, নাতি-নাতনি এবং জীবনসঙ্গীকে ঘিরে একটি শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখতেন অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু সমাজের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আজ এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে অনেক প্রবীণের পরিবার আছে, আত্মীয়স্বজন আছে, সন্তানও আছে—কিন্তু সঙ্গ নেই। এই একাকী বার্ধক্য নীরবে আমাদের সমাজের একটি বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে।


একাকিত্ব মানেই একা বসবাস নয়। একজন মানুষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থেকেও গভীরভাবে একাকী হতে পারেন। কারণ, মানুষের শুধু খাদ্য, বস্ত্র বা চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন কথা বলার মানুষ, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার মানুষ এবং নিজের অস্তিত্বের মূল্য অনুভব করার সুযোগ। বার্ধক্যে এসে এই চাহিদাগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে।


অতীতে যৌথ পরিবারে প্রবীণেরা ছিলেন পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ এবং সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সংসারের ছোট-বড় নানা বিষয়ে তাঁদের সম্পৃক্ততা ছিল। ফলে বয়স বাড়লেও তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনীয় এবং সম্মানিত মনে করতেন। কিন্তু নগরায়ণ, কর্মব্যস্ততা, ছোট পরিবার এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে সেই সামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে গেছে।


আজকের তরুণ প্রজন্মের জীবন ছুটছে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা এবং নানা প্রতিযোগিতার পেছনে। অনেক সন্তান দেশের এক প্রান্তে, আবার কেউ বিদেশে বসবাস করে। প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগের সুযোগ বাড়লেও সম্পর্কের গভীরতা সব সময় সমানভাবে বাড়েনি। মোবাইল ফোনে কয়েক মিনিটের খোঁজখবর নেওয়া হয়তো দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু তা সব সময় সঙ্গের অভাব পূরণ করতে পারে না।


অনেক প্রবীণ আছেন, যাঁদের সংসারে অর্থের অভাব নেই। সন্তানেরা দায়িত্বশীল, নিয়মিত খোঁজও নেন। তবু তাঁদের মনে একধরনের শূন্যতা কাজ করে। কারণ, তাঁরা অনুভব করেন, তাঁদের কথা শোনার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, পরিবারের আলোচনায় তাঁদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা থেকে তাঁরা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। ফলে তাঁরা নিজের ঘরেই অনেক সময় অতিথির মতো অনুভব করেন।


জীবনসঙ্গী হারানোর পর এই একাকিত্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী চলে গেলে শুধু একজন মানুষকে হারানো হয় না; হারিয়ে যায় স্মৃতির অংশীদার, আনন্দ-বেদনার সঙ্গী এবং জীবনের সাক্ষী। সন্তানসন্ততি পাশে থাকলেও সেই শূন্যতা পূরণ করা সহজ নয়। অনেক প্রবীণ তখন নীরবে মানসিক চাপ, বিষণ্নতা এবং জীবনের প্রতি অনাগ্রহের মধ্যে দিন কাটান।


একাকী বার্ধক্যের আরেকটি কারণ হলো প্রজন্মগত দূরত্ব। নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা, জীবনধারা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবন অনেক সময় প্রবীণদের কাছে অপরিচিত মনে হয়। অন্যদিকে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধও তরুণদের কাছে সব সময় সমান গুরুত্ব পায় না। ফলে একই পরিবারে থেকেও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।


এই বাস্তবতা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ। কারণ, একাকিত্ব মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব মানসিক অবসাদ, স্মৃতিশক্তির অবনতি, উদ্বেগ এবং নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রবীণদের একাকিত্বকে শুধু আবেগের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে সামাজিক স্বাস্থ্য সমস্যার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও