২৪ বছর ট্রফিহীন, তবুও কেন ব্রাজিল সমর্থন করি?

বিডি নিউজ ২৪ রাজু নূরুল প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ১১:১২

যখন বড় হচ্ছিলাম, আমাদের গ্রামে কোনো টেলিভিশন ছিল না! বিশেষ কোনো উপলক্ষে—যেমন বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলার সময় টেলিভিশন ভাড়া করে আনা হতো! বিদ্যুতের ওপর ভরসা নেই বলে ব্যাটারি দিয়ে চলত সেই টেলিভিশন। অবশ্য আরও একটা কারণে প্রায়ই টেলিভিশন ভাড়া আনা হতো, সেটি হলো বাংলা সিনেমা দেখার জন্য! টেলিভিশনের সঙ্গে আনা হতো ভিসিআর! ওখানে অবশ্য আমাদের মতো ‘ছোটদের’ যাওয়া বারণ ছিল। কিন্তু সিনেমা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর লুকিয়ে পেছনের দিকে গিয়ে বসলে কেউ কিছু বলত না। এভাবে অনেকগুলো সিনেমা দেখে ফেলেছিলাম, যার সবই সালমান শাহ্‌র সিনেমা। এসবই নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিককার কথা।


২.


ওই দশকের প্রথম বিশ্বকাপটা ব্রাজিল জিতল! আমরা তখন বেশ ছোট। এ দেশের প্রায় সব শিশুর মতো, বৃষ্টি-বাদলের দিনে, পাড়ার রাস্তায়, স্কুলের কাদামাখা মাঠে, বাড়ির উঠানে, ফসলের ক্ষেতে ফুটবল তো খেলিই! তখনও এ দেশে ফুটবলটাই একমাত্র খেলা। বাকি কিছু শীতকালীন খেলা আছে বটে—যেমন ধরেন গোল্লাছুট, দাঁড়িয়াবান্ধা, ভলিবল; তবে ফুটবলের কাছে ওসব নস্যি!


৯৪-এর বিশ্বকাপটা ব্রাজিল যখন জিতে গেল, আমরা তখন কিছু না বুঝেই আনন্দে ভেসে গেলাম! গ্রামের স্কুলঘরের ভেতরে টেলিভিশনে খেলা দেখাল। ইতালিকে ৩-২ গোলে পেনাল্টি শুটআউটে হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বড়রা মিছিল বের করে ফেলল। তার আগে ক্লাসরুমের টেবিল-চেয়ার চাপড়ানো হলো, আমরাও সঙ্গে তাল দিলাম। এখনো সেই মধ্যরাতে গ্রামের স্কুলে শত শত চোখের তীক্ষ্ণ অপেক্ষার কথা মনে পড়ে। সেই প্রথম ব্রাজিলকে ভালোবাসলাম! ফুটবলের বরপুত্র... সেই অর্থে বলা যায়, ব্রাজিলই তো আমাদেরকে ফুটবল চেনাল।


৩.


ওহ হো... তারও আগে, এই ব্রাজিলের সঙ্গে পরিচয় কিন্তু পাঠ্যবইয়ে। মনে আছে একটা নাম? এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো... কী নাম রে বাবা... শুধু নামটা মুখস্থ করতেই তো জান প্রায় শেষ! বাংলা বইয়ের পুরো একটা চ্যাপ্টার এই ‘কালো মানিককে’ নিয়ে! কোন ক্লাসে পড়েছি ঠিক মনে নেই। সঙ্গে কুচকুচে কালো একটা ছবি। সাদাকালো সেই ছবি আরও অন্ধকার দেখাত। সেই থেকে শুরু। এরপর ব্রাজিলকে সমর্থন করে গেছি বরাবর! যেহেতু বিশ্বকাপ জিতেছে, ফলে নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম ব্যাপকভাবে ব্রাজিলকে পছন্দ করল! এরকমই হয়। যেমনটা ৮৬-তে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে হয়েছে, কিংবা গত বিশ্বকাপে হয়েছে লিওনেল মেসির কারণে।


৪.


এরপর এলো নতুন শতাব্দী! এলো ২০০২ সালের বিশ্বকাপ। এমন এক বিশ্বকাপ টিম, যে টিমের সবাই তারকা, সবাই কিংবদন্তি! রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোমারিও, কাকা, কার্লোস, রোনালদিনহো... ফুটবল নিয়ে কত জাদু যে এদের জানা! কেউ পৃথিবীর সেরা স্ট্রাইকার, তো কেউ আবার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার। কার্লোসের অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক! একটা জেনারেশনের ব্রাজিলের প্রতি মোহিত হতে আর কী লাগে? বাপ-দাদাদের মুখে শোনা গল্প না তো, নয় আন্দাজে ঢিল ছোঁড়া; রীতিমতো দেখে-শুনে-বুঝে একটা টিমকে সাপোর্ট করা। তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। মীর মশাররফ হোসেন হলের কমনরুমের টিভির পাশের দেয়ালে লেখা ছিল, ‘মার্চ উইথ ব্রাজিল, ডান্স উইথ সাম্বা।’ পাশে সবুজ রং দিয়ে লেখা ‘ব্রাজিল’। ওটা দেখলেই আনন্দ হতো।


৫.


২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও আবার ব্রাজিল। চারদিকে দলটার জোয়ার উঠল যেন। এই জোয়ার মোটেও কোনো ফাঁপা বুলি ছিল না। নিজ দেশে খেলা, সেই স্কলারি আবারও কোচ! স্বপ্নে বুদবুদ উঠল। ততদিনে নেইমার নামের ২২ বছরের একটা ছেলে হইচই ফেলে দিয়েছিল। তাকে কেন্দ্র করে স্বপ্নের ডালপালা গজিয়েছে, সঙ্গে ছিল লুইস, অস্কার, মার্সেলোরা।


চলছিলও সব ঠিকঠাক। একের পর এক ম্যাচ জিতে স্বপ্নের মারাকানার পথে পা-টা ঠিকঠাকই ছিল! কিন্তু পথে নেইমারের সেই ভয়াবহ ইনজুরি; স্ট্রেচারে যখন নেইমারকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল, কোটি কোটি ব্রাজিলপ্রেমী মানুষের বুক ধকধক করেছে। কিন্তু কে জানত, ওই স্ট্রেচারেই হয়ে গেছে স্বপ্নের সমাপ্তি? নেইমারকে কেন্দ্র করে গোটা টিমকে সাজানো হয়েছিল। ফলে তার ছিটকে পড়ার মধ্য দিয়ে গোটা টিম ছন্নছাড়া হয়ে গেল। হাল ছেড়ে দেওয়া দিশেহারা নাবিকের মতো সেমিফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে সাত গোল হজম করল দলটা।


চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকরা আজীবনের মওকা পেয়ে গেল! তরতর করে ‘সেভেন-আপ’-এর বাজার বেড়ে গেল, তেমন কোনো মার্কেটিং ছাড়াই। আমরা তখন এই বলে সান্ত্বনা খুঁজেছি যে, ওটা নিছকই দুর্ঘটনা। এরকম ঘটনা ইতিহাসেই তো মাত্র একবার হয়েছে; যদিও সেবার ৩৯ বছরের ইতিহাসে ব্রাজিল নিজেদের দেশে প্রথমবারের মতো হেরেছিল, তাও বিশ্বকাপে, তাও সেমিফাইনালে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও