কতটা ‘বিকল্প’ হতে পারল এনসিপি, মধ্যপন্থা কতটা টিকল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের ‘বিকল্প’ ও ‘মধ্যপন্থী’ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার এক বছর চার মাসের মাথায় দলটি এখন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের শরিক। সংসদে উপস্থিতি নিশ্চিত হলেও এই জোটই এনসিপির স্বাতন্ত্র্য ও মধ্যপন্থার দাবি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে এনসিপির মোট আসন আটটি। এর মধ্যে ছয়টি সরাসরি নির্বাচিত, দুটি সংরক্ষিত নারী আসন। জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কারণে এনসিপি সংসদে জায়গা পেয়েছে—এ কথা দলটির নেতারাও অস্বীকার করছেন না। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, এই সংসদীয় উপস্থিতির বিনিময়ে দলটি কি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান দুর্বল করে ফেলেছে? এনসিপি কি শেষ পর্যন্ত প্রচলিত দলগুলোর বাইরে আলাদা বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে, নাকি জামায়াতের ছায়ার নিচেই চাপা পড়ে যাবে?
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এনসিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতারাই দলটির উদ্যোক্তা ছিলেন। আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। সেখানে বলা হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মধ্য থেকে স্লোগান উঠেছিল—‘তুমি কে, আমি কে? বিকল্প বিকল্প’। সেই বিকল্পের জায়গা থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।