তৃতীয় টার্মিনাল, বিদেশি আগ্রহ ও ‘মধুর সমস্যা’

ঢাকা পোষ্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা মো. কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৩

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন ভিত্তি।


এই টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে সিঙ্গাপুরের স্যাটস্, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, যুক্তরাজ্যের মেনজিস, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন এবং সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ প্রকাশ নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এটি একদিকে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


অনেকেই একে ‘মধুর সমস্যা’ বলে অভিহিত করছেন। কারণ, সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক অপারেটর আকর্ষণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।


অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলো নিজেরাই আগ্রহ দেখাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি কেবল আনন্দের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।


বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন শিল্পে একটি বিমানবন্দরের প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হয় তার রানওয়ে বা টার্মিনালের আকার দিয়ে নয়, বরং অপারেশনাল দক্ষতা দিয়ে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেই দক্ষতার মূল ভিত্তি।


একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর থেকে পুনরায় উড্ডয়ন পর্যন্ত যে সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়—ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, কার্গো লোডিং-আনলোডিং, কেটারিং, ক্লিনিং, যাত্রী বোর্ডিং, বিমানের পুশব্যাক, র‌্যাম্প অপারেশন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম—সবই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতাভুক্ত।


বিশ্বের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলো একটি উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড বা গ্রাউন্ড টাইম ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এই সময় যত কম হবে, এয়ারলাইন্সের লাভ তত বাড়বে। ফলে দক্ষ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বছরে প্রায় এক কোটির কিছু বেশি যাত্রী পরিবহন হলেও নতুন টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সেই সংখ্যা দুই থেকে আড়াই কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটবে। এই বিশাল বাজারই বিদেশি অপারেটরদের আকৃষ্ট করছে।


সিঙ্গাপুরের স্যাটস্ এশিয়ার অন্যতম সফল বিমানবন্দর সেবা প্রতিষ্ঠান। তারা বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কার্গো সেবা পরিচালনা করে। তাদের আগ্রহের অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের বাজার এখন লাভজনক ও সম্ভাবনাময়।


একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ডানাটা (Dnata)-র আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের এভিয়েশন খাত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল খাতগুলোর একটি। দুবাই ও আবুধাবির মতো হাব বিমানবন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বাংলাদেশে সুযোগ খুঁজছে।


যুক্তরাজ্যের মেনজিস, তুরস্কের সেলেবি এভিয়েশন ও সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহও একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—বাংলাদেশ আর শুধু শ্রম রপ্তানিকারক দেশ নয়; এটি এখন একটি উদীয়মান আঞ্চলিক এভিয়েশন বাজার।


বিদেশি অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে প্রযুক্তি ও দক্ষতার স্থানান্তর। আধুনিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এখন অনেকাংশে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর। ব্যাগেজ ট্র্যাকিং, কার্গো ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল র‌্যাম্প কন্ট্রোল এবং স্মার্ট অপারেশন সিস্টেমের ব্যবহার যাত্রীসেবাকে দ্রুত ও নির্ভুল করে।


বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত হবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে, বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নত হবে, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের আস্থা বৃদ্ধি পাবে, কার্গো ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও