ট্রাম্পকে আর বিশ্বাস করবে কে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাটুকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে সাধুবাদ জানিয়েছিলেন; তা কখনোই ইরানের জনগণের জন্য কোওে যুদ্ধ ছিল না, মধ্যপ্রাচ্যের পুনর্গঠনের কোনও কৌশলগত প্রচেষ্টা ছিল না। এমনকি ইরানকে দমনের কোনও সুসংগত উদ্যোগও ছিল না। এই যুদ্ধ ছিল নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা কিংবা যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার কৌশল ছাড়া চালানো এক অভিযান। স্বাভাবিকভাবেই এই যুদ্ধ উভয়-সংকটের লড়াই হিসেবে শেষ হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কোনও উদ্দেশ্যই বাস্তবায়িত হয়নি। ধর্মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটেনি, ইরানের আঞ্চলিক প্রকল্প নস্যাৎ করা যায়নি এবং কোনও অর্থপূর্ণ বা দীর্ঘস্থায়ী উপায়ে দেশটির ক্ষমতাও খর্ব করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম যেমন স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ কখনোই ইরানের জনগণের অধিকারের বিষয় ছিল না... কর্তৃপক্ষ এটিকে দমনপীড়ন তীব্র করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রতিশোধের ভয়ে নিজের পুরো নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে তেহরানের এক নারী বলেছেন, ‘‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যেকোনও শান্তি চুক্তি মানে আমার অত্যাচারীদের সঙ্গে চুক্তি করা।’’
এসব কথা কেবল কোনও আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এগুলো প্রমাণ করে, যুদ্ধ ইরানের ভেতরে কোনও পরিবর্তন আনতে পারেনি। এই যুদ্ধ ইরানের সরকারকে একটি চিরচেনা এবং কার্যকর বয়ান উপহার দিয়েছে; কণ্ঠরোধ ও ভুক্তভোগী হওয়ার সেই ভাষা—যা তারা গত চার দশক ধরে রপ্ত করেছে।