পূর্বাচল সচল হবে কবে?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ২১:৫১

ঢাকা শহর যেন নিজের ভারেই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সকালে রাজধানী জেগে ওঠে যানজটের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, আর রাতে ঘুমাতে যায় ক্লান্ত অবকাঠামো, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও সীমাহীন নগরচাপের বোঝা বুকে নিয়ে। একসময় যে শহরটি ছিল কয়েক লাখ মানুষের আবাসস্থল, আজ সেখানে দুই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রায় সবকিছুই ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফলে রাজধানীর ওপর চাপ কমানোর প্রশ্নটি এখন আর কেবল নগর পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের একটি অপরিহার্য অংশ।


এই বাস্তবতায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে অনেকেই বাংলাদেশের নগর উন্নয়নের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু দুই দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও প্রশ্নটি রয়ে গেছে—পূর্বাচল সচল হবে কবে?


পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রায় ৬ হাজার একরেরও বেশি এলাকা নিয়ে গাজীপুর ও রূপগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমানো, একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত উপশহর গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের নগরায়ণের জন্য বিকল্প কেন্দ্র সৃষ্টি করা।


সেই সময় প্রকল্পটি ছিল দূরদর্শী এক উদ্যোগ। কারণ তখনই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে ঢাকা দীর্ঘমেয়াদে বর্তমান জনসংখ্যার চাপ বহন করতে পারবে না। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন নগর পরিকল্পনাবিদ বহুবার বলেছেন, অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ একটি দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও জীবনমান উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। ঢাকার বর্তমান বাস্তবতা সেই সতর্কবার্তারই প্রতিফলন।


পূর্বাচল ঘিরে মানুষের স্বপ্নও ছিল বড়। প্রশস্ত সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র, প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন শহর গড়ে তোলার কথা ছিল। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের সঞ্চয়, অবসরভাতা কিংবা জীবনের অর্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে সেখানে প্লট কিনেছেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, কয়েক বছরের মধ্যেই সেখানে বসবাস শুরু করতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবতা আজও ভিন্ন।


পূর্বাচলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সড়ক নির্মাণ হয়েছে, প্লট হস্তান্তর হয়েছে, কিছু অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে; কিন্তু একটি শহর শুধু রাস্তা আর প্লটের সমষ্টি নয়। একটি শহর তখনই জীবন্ত হয়, যখন সেখানে মানুষ বসবাস করে, শিশু স্কুলে যায়, রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা পায়, ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে, গণপরিবহন চলে এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।


দুর্ভাগ্যজনকভাবে পূর্বাচলে এখনো এই মৌলিক উপাদানগুলোর অনেকটাই অনুপস্থিত। পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, মানসম্মত হাসপাতাল নেই, বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত, গণপরিবহন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত এবং অনেক এলাকায় বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাও গড়ে ওঠেনি। ফলে যাঁরা প্লট পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন না।


এর অন্যতম কারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ভূমি উন্নয়ন, নকশা অনুমোদন, ইউটিলিটি সংযোগ, সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ক্ষেত্রে এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু পূর্বাচলের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পে এই দীর্ঘসূত্রতা আরও বেশি দৃশ্যমান। অথচ পূর্বাচল সচল হলে এর প্রভাব শুধু একটি নতুন আবাসিক এলাকা তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ঢাকার নগর কাঠামোকেই বদলে দিতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও