প্রস্তাবিত বাজেট : কৃষি খাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি অপ্রতুল

কালের কণ্ঠ ড. জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৩

গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা শিরোনামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব সংসদে পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বছরের মূল বাজেটের তুলনায় তা এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮.৭৩ শতাংশ বেশি। এ বাজেটের আকার হচ্ছে জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত নয়া বাজেট ওই বাজেট থেকে ১১৯৩ গুণ বেশি।

বাংলাদেশে বাজেট বৃদ্ধির হার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হয়ে থাকে।  এবার তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অন্যান্য কারণের মধ্যে প্রধানত সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায় বাজেটের আকার সম্প্রসারিত করেছে। তবে দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে একটি আঁটসাঁট বাজেট প্রস্তাবই এবার কাঙ্ক্ষিত ছিল।


প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি  অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা হলো পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা, তবে প্রকৃত রাজস্ব আদায় পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে বলে মনে হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় ছিল চার লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল তিন লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আগামী বছর এবারের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। এটি অনেক বড় প্রত্যাশা। এটি সম্ভব না হলে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়াতে হবে। তাতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। উৎপাদনশীল খাতগুলোকে এর ভার বহন করতে হবে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।


গত বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫.৫ শতাংশ। প্রাথমিক হিসাবে অর্জনের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম, ৪.১৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। এর আগের বছরে ছিল ৪.২২ শতাংশ। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ। আগামী বাজেট বাস্তবায়নের হার ও গুণগত মান সন্তোষজনক না হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। বাস্তবে এটা হয়তো আরো বেশি হবে। বর্তমানে গড় মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। গত মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৬ শতাংশ। সম্প্রতি দেশে কৃষির উৎপাদন বিশেষ করে বোরো ধানের উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অনমনীয় থাকবে বলে ধারণা করা যায়।


প্রস্তাবিত কৃষি বাজেট সংকুচিত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কৃষিবিষয়ক পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। এ টাকা মোট বরাদ্দের ৪.৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে শস্য কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩.০৮ শতাংশ। বাকি ১.৯১ শতাংশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ, ভূমি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সমূহের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা অপ্রতুল। দিনের পর দিন বাজেটে বৃহত্তর কৃষি খাতের হিস্যা হ্রাস পেয়েছে। ২০১১-১২ সালে বৃহত্তর কৃষি খাতের হিস্যা ছিল মোট বাজেটের ১০.৬৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তা নেমে আসে ৫.৮৬ শতাংশে। এবার তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৯৯ শতাংশে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৬.৬৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ২.৪২ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা ২.৭৮ শতাংশ হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশ নিশ্চিত করা উচিত। সে লক্ষ্যে ন্যূনপক্ষে মোট বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ কৃষিতে নিয়োজিত করা উচিত।


২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফসল খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ১৭,২৪১ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তার পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার এক কোটি টাকা। গত বছরের মূল বাজেট থেকে তা ২৪০ কোটি টাকা কম। ২০১১-১২ সালের সংশোধিত বাজেটে কৃষি ভর্তুকির হিস্যা ছিল ৬.৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ২.১৮ শতাংশ নেমে আসে। এবার তা আরো কমে ১.৭৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে কৃষি ভর্তুকির ক্রম হ্রাস অনাকাঙ্ক্ষিত। তাতে বিঘ্নিত হবে কৃষির উৎপাদন। খাদ্য নিরাপত্তা ব্যাহত হবে। কৃষি খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন বাড়িয়ে যেতে হলে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ মোট কৃষি উৎপাদন মূল্যের ১০ শতাংশ নিশ্চিত করা উচিত।


বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৬.০৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কৃষিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য চারটি মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ৫.৭৯ শতাংশ কমে গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ গত বছরের মূল বরাদ্দ থেকে ১৯.৬ শতাংশ এবং সেচ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৫.৯৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবার ৪.৬৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পাট মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমেছে ১১.০৫ শতাংশ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১০.৫২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এভাবে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত মন্ত্রণালয়সমূহের বরাদ্দ হ্রাস খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি দমনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও