‘সুপার’ এল নিনো ও আমাদের কৃষি

www.ajkerpatrika.com শাইখ সিরাজ প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সম্প্রতি একটি গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। এবারের গ্রীষ্মের ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি হতে পারে এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। সার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে এমনিতেই আমাদের বৈশ্বিক ও দেশীয় খাদ্যব্যবস্থা একধরনের ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই বহুমাত্রিক সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের বাজারের থলিতে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকবে না। বিশ্বজুড়ে উৎপাদক, খুচরা বিক্রেতা এবং প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনীতিতে এটি বড় ধরনের ধস নামাতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, ‘এল নিনো’ আসলে কী, কেন এটি এবার এত ভয়ংকর এবং আমাদের বাংলাদেশের কৃষিতে এর প্রভাব কতটা পড়তে পারে।


এল নিনো (El Niño) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। স্প্যানিশ এই শব্দের অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’ বা ‘যিশু শিশু’।

স্বাভাবিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বাণিজ্য বায়ু (ট্রেড উইন্ডস) পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়, যা উষ্ণ পানিকে এশিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এল নিনো চলাকালীন এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মহাসাগরের পৃষ্ঠের উষ্ণ পানি উল্টো দিকে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের দিকে জমা হতে থাকে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়—কোথাও তৈরি হয় তীব্র খরা, আবার কোথাও দেখা দেয় অতিবৃষ্টি বা বন্যা।


এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় (সাধারণত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি) বেড়ে যায়, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বা গণমাধ্যমের ভাষায় ‘গডজিলা এল নিনো’ বলা হয়। এটি সাধারণ এল নিনোর চেয়ে অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী। ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনোর প্রভাবে ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকায় মারাত্মক খরা দেখা দিয়েছিল, আর দক্ষিণ আমেরিকায় হয়েছিল ভয়াবহ বন্যা।


এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমে যায় এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশের কৃষিতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে বাধ্য। আমন ধান পুরোপুরি বৃষ্টিনির্ভর। এল নিনোর কারণে বর্ষায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হলে আমন রোপণ ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। অন্যদিকে, খরা ও তীব্র তাপমাত্রার কারণে বোরো মৌসুমে সেচের পানির স্তর নিচে নেমে যাবে, ফলে কৃষকের সেচ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ফসলের পরাগায়ন, অঙ্কুরোদগম ও ফসল পাকার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ধানের শিষ চিটা হয়ে যাওয়ার যে সমস্যা আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখেছি, তা আরও বাড়তে পারে। বৃষ্টিপাত কম হলে নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাবে, ফলে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমিতে লবণাক্ততা আরও ভেতরের দিকে প্রবেশ করবে, যা ওই অঞ্চলের কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলবে।


বিশ্বের খাদ্যব্যবস্থার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে গরুর মাংস, দুধ, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য আমিষ। অতিরিক্ত গরমে গবাদিপশুর শরীরে ‘হিট স্ট্রেস’ তৈরি হয়। এতে তাদের খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যায় এবং বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। দুগ্ধ প্রদানকারী গাভিগুলো এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। এক দিনের তীব্র গরমে গরুর দুধ উৎপাদন ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আমাদের দেশের পোলট্রি খামারিরা ইতিমধ্যেই তীব্র গরমে মুরগির মৃত্যুতে যে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে চারণভূমির অভাব, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং তাপপ্রবাহ সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও