অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষায় নেওয়া হবে পরীক্ষার ফি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তৃতীয় শ্রেণিতে শিক্ষার্থীপ্রতি ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক উল্লেখ করে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনেকে বলেছেন, পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈতনিক শিক্ষার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় এক কোটি। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। বছরে তিনটি পরীক্ষা হয়ে থাকে—ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক।
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, টাকার অঙ্কে ফি খুব বড় না হলেও অবৈতনিক শিক্ষার নীতি, দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বের প্রশ্নে এর তাৎপর্য রয়েছে।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, বরাদ্দ–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত সরকারিভাবে পরীক্ষার খরচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নিতেই হবে, আর এর জন্য টাকা দরকার। কিন্তু এখন সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে এ সমস্যা থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ফি নেওয়া হবে না।’ ফি নেওয়ার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান সচিব।