সংস্কার ছাড়া গণতান্ত্রিক রূপান্তর কি সম্ভব

প্রথম আলো সহুল আহমদ প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ২২:০২

রাষ্ট্র সংস্কারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বাংলাদেশের জনপরিসরে তর্কবিতর্ক এখনো চলমান। সম্প্রতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ–সভাপতি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রীয়াজের একটি সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় গবেষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার একটি প্রবন্ধে কিছু জরুরি প্রশ্ন তুলেছেন। সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও তিনি বর্তমান সংস্কার ও এর প্রক্রিয়াগত কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন।


তিনি মূলত চারটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন: প্রথমত, সাংবিধানিক সংস্কারের প্রকল্পটা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর এজেন্ডা আকারে হচ্ছে কি না? দ্বিতীয়ত, সংস্কারপ্রক্রিয়া আদতে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে? তৃতীয়ত, গণভোটের মাধ্যমে কি সত্যিই জনগণের প্রকৃত সম্মতি যাচাই করা সম্ভব? চতুর্থত, স্বৈরতন্ত্রের ফিরে আসার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে যে ‘ভয়কেন্দ্রিক’ রাজনৈতিক ডিসকোর্স তৈরি করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের পরিসর সংকুচিত করছে কি না।  


দুই.


দার্শনিক হানা আরেন্ডটের বরাত দিয়ে জালাল উদ্দিন শিকদার উল্লেখ করেছেন, যেকোনো আন্দোলনের পর কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের সেই আন্দোলনের ‘একমাত্র বৈধ ব্যাখ্যাকারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের বহুত্ববাদী গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কারের দাবি বা একটি নির্দিষ্ট ‘সাংবিধানিক প্রকল্প’কে একমাত্র বৈধ আকাঙ্ক্ষা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই কি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্যই রাস্তায় নেমেছিলেন?


হানার এই সমীকরণ পৃথিবীর সব আন্দোলনের বেলাতেই খাটে। এই সমালোচনা প্রায় সব আন্দোলনের বেলায় করা যায়। বিদ্যায়তনিক জগতে এই সংকট কাটানোর জন্য নানা পদ্ধতিগত আলোচনাও রয়েছে।


তবে এই যুক্তির আলোকে সাংবিধানিক সংস্কার বা পুনর্লিখনের আলোচনাকে মিলিয়ে দেখার বিষয়টিকে অনৈতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের সমাজের নানা অংশ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটেছে চব্বিশের জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায়। এখানে দুটি বাস্তবতাকে আমাদের আমলে নেওয়া দরকার।


প্রথমত, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের আলাপ মোটেও নতুন নয়। এখানকার সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র ও এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে বিস্তর আলাপ হয়েছে। বিগত আওয়ামী শাসনামলে যখন সংবিধানের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা গণতন্ত্রহীনতার বীজগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে, তখন এই আলাপ মূলধারার মাঠের রাজনীতিতেও জোরালো হয়। ফলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা একটি জনপ্রিয় দাবিতে পরিণত হয়েছিল।


রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতির মতো দলগুলো যেমন সংস্কারের আলোচনা রাজনৈতিক মাঠে হাজির করেছিল, তেমনি বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলও তাদের ৩১ দফায় সংবিধান-সংশ্লিষ্ট বহু সংস্কারের কথা বলেছিল।


দ্বিতীয়ত, বিগত দেড় দশকে যে ধরনের পদ্ধতিগত গুম-খুন এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্ট মাসে যে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, সেখানে স্বভাবতই ‘সংস্কার’ আলাপ জরুরি হয়ে দেখা দেয়। কেননা, পৃথিবীর অভিজ্ঞতা বলে যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এ ধরনের সহিংসতা-উত্তর পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।


সুতরাং সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিকে কোনো সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করা ভুল হবে। বরং একে গত ৫০ বছরের রাজনৈতিক সংকটের পরিণতি এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের যৌক্তিক ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখতে হবে।


এই বাস্তবতায় স্বৈরতন্ত্রের ফিরে আসার আশঙ্কা এবং বিভিন্ন পরিচয়বাদী রাজনীতির ‘ভয়’ (যেমন হিন্দু/মুসলমানরা বিপদে আছে) এক কাতারের নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশ আবার স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার যে আশঙ্কা, তাকে পরিচয়বাদী রাজনীতির ছকে ফেলে বিচার করা বিভ্রান্তিকর। দীর্ঘ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাঁরা গেছেন, তাঁদের কাছে এটা কেবল শঙ্কার বিষয় নয়, বাস্তব। একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় স্বৈরতন্ত্রকে ঠেকানোর বাসনা সেই রূপান্তর প্রক্রিয়ারই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও