রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিচারকে আমরা কীভাবে পাঠ করব?

বিডি নিউজ ২৪ আমীন আল রশীদ প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১৯:১১

রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যে দ্রুত বিচার হবে এবং বিচারে যে প্রধান আসামি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে, সেটি মোটামুটি সবারই ধারণায় ছিল। রায়ে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যদিও রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি ছিল, যেহেতু সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার সরাসরি শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে যুক্ত নন, বরং তিনি এই ঘটনার সহযোগী, ফলে তার লঘু দণ্ড হোক। কিন্তু আদালত উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এটি আদালতের এখতিয়ার।


এটা ঠিক যে, জনগণের দাবি কিংবা রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের ওপর বিচারের রায় নির্ভর করে না। বিচারক কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক চাপ আমলে নিয়ে রায় দেন না বা দেবেন না—এটিই বিচারের ধর্ম। বরং তাকে রায় দিতে হয় ঘটনা নিয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর চার্জশিট বা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু তারপরও কোনো একটি ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে, সমাজে ও রাষ্ট্রে তোলপাড় শুরু হলে, সেটির বিচার করতে গিয়ে বিচারক অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক চাপে পড়তে পারেন। বিশেষ করে কোনো ঘটনায় সরকার যখন তার স্পষ্ট অবস্থান ঘোষণা করে এবং সরকারের ভাষা ও আচরণে যদি এটা বোঝা যায় যে, তারা এই ঘটনার বিচারে কী ধরনের রায় দেখতে চায়, তখন সরকারের এই অবস্থান বিচার বিভাগ তথা আদালতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে রায় বদলে যাওয়ার উদাহরণও রয়েছে। তারপরও আমাদের এটি বিশ্বাস করতে হয় যে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং বিচারক নিরপেক্ষ ও নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিতে, সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন।


রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।


প্রশ্ন হলো, রামিসা হত্যা মামলাটিকে আমরা কি আর দশটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মতোই পাঠ করব? নিশ্চয়ই না। কেননা, ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় এবং বিচার শুরুর মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা বাংলাদেশে তো বটেই, সম্ভবত বিশ্বের বিচারিক ইতিহাসেই বিরল।


প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় তার স্বামী সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। ঘটনার দিনই রামিসার বাবা ওই দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।


ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিন বিকালেই নথি পাঠানো হয় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। সেদিনই বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি অভিযোগ গঠনের পর শুনানির জন্য দিন রাখেন পহেলা জুন। মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। ২ জুন একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরদিন আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানিতে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পরে আদালত ঘোষণা করেন, মামলার রায় দেওয়া হবে ৭ জুন এবং নির্ধারিত দিনেই রায় ঘোষণা করা হয়। তার মানে, এই মামলায় চার্জশিট দেওয়া থেকে শুরু করে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে,‎ যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।


রামিসা হত্যার বিচার এত দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পেছনে মোটা দাগে তিনটি কারণকে চিহ্নিত করা যায়। ১. ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। যে কারণে সকল সংবাদমাধ্যম ঘটনার খবর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রচার করতে পেরেছে বা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার করেছে। একই ঘটনা ঢাকার বাইরের কোনো জেলা বা উপজেলা শহর, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ঘটলে মিডিয়ায় এতটা গুরুত্ব পেত না। আর দশটা ধর্ষণ ও হত্যার মতোই এটি নিয়েও সংবাদমাধ্যমে সাদামাটা সংবাদ হতো এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষ এটি ভুলে যেত—যদি এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় না হতো। ২. রামিসার ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এই নৃশংস, নির্মম ও ঘৃণ্য ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবিতে আওয়াজ তোলে। ৩. এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে যায় এবং সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও