দৌলতদিয়ায় নদীতে পড়া বাসটি আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার, আগেই নামিয়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে টেনে ঘাটে থাকা কে-টাইপ ফেরি করবীর ওপর তোলে।
এর আগে আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম ভেঙে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দ্রুত বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বাসে যাত্রীরা ছিলেন না। ফেরিতে ওঠার আগেই তাঁরা নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বাসে থাকা মালামাল উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন বাসের চালক ঝন্টু আলী (৪৮) বলেন, ‘শুক্রবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে কুষ্টিয়ার মদনপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই। বাসে ৩৭ জন যাত্রী, চালক, সহকারীসহ প্রায় ৪০ জন ছিলেন। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটের রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ভেড়ানো ছিল। অপর দিকে কে-টাইপ ফেরি করবী ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটে যাত্রীদের নামতে আহ্বান করা হয়। অনেকে নামতে না চাইলে নৌ পুলিশ তাঁদের নামিয়ে দেয়। এ সময় আমি ও আমার সহকারী ফেরিতে ওঠার জন্য গাড়ি চালু করি। তখন গাড়ির ব্রেক ফেল করে (নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে) সরাসরি করবী ফেরির র্যামে আঘাত করে। র্যাম ভেঙে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। পরে বাসের জানালা দিয়ে কোনোভাবে বের হয়ে আসি। স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- উদ্ধার
- যাত্রীবাহী বাস