আন্দোলন তিস্তায়, প্রকল্প পদ্মায়!

প্রথম আলো তুহিন ওয়াদুদ প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ২১:৩২

গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেকে) সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের জন্য ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এই টাকার উৎস সরকারের রাজস্ব খাত।


এই খবর দেখার পর থেকে তিস্তাতীরবর্তী মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের একটাই কথা, তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ না দিয়ে খোঁজা হচ্ছে ঋণ। আর পদ্মা ব্যারাজের জন্য দেওয়া হলো নিজস্ব অর্থ বরাদ্দ।


অনেকে ফেসবুকে লিখেছেন ‘আন্দোলন তিস্তায়, প্রকল্প পদ্মায়’। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অনেকে লিখেছেন তাদের হতাশার কথা। এই হতাশা কোনোভাবেই অমূলক নয়।


তিস্তার দুই পাশে ভাঙনে লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। অগণিত মানুষ আছে, যাদের বাড়ি অন্তত ৮-১০ বার ভেঙেছে।


উদ্বাস্তু মানুষগুলোর পারিবারিক সম্পর্কও ভেঙে গেছে। পরিবারের একেক সদস্য বেঁচে থাকার তাগিদে দেশের একেক প্রান্তে ছুটে গেছে। বাবা-সন্তান, ভাই-ভাই, ভাই-বোন, বন্ধু, প্রতিবেশী সব রকম সম্পর্কের কবর রচিত হয় তিস্তার ভাঙনে।


সম্প্রতি তিস্তাপারের এক ব্যক্তি বলেছিলেন, ‘তিস্তার পাড় ভাঙা মানুষকে দেশের সব বড় বড় বস্তিতে পাওয়া যাবে। দেশের সব জেলায় শ্রম বিক্রি করছে তিস্তাতীরবর্তী মানুষ।’


শত বিঘা জমির মালিক রাতারাতি কপর্দকশূন্য হয়েছেন। অগণিত মানুষের মর্মান্তিক আখ্যানে পূর্ণ তিস্তার সুপার।


তিস্তার দুই পারে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে মানুষের বাড়ি ভাঙেনি। তিস্তাপারে এমনও দেখেছি বৃদ্ধা তাঁর স্বামীর কবর আঁকড়ে ধরে আছেন।


রাত হয় তবুও সরে আসেন না। কবর নদীতে ভেঙে যাচ্ছে, তবুও কবর ধরে থাকেন। স্বামীর কবর চলে যাবে, এটা কিছুতেই মানতে পারেন না।


দেখেছি এক বৃদ্ধা প্রচণ্ড বৃষ্টিতে কাদামাটিতে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন, আর নদীর ভেতরে নিজের ঠিকানা দেখাচ্ছেন। তাঁর মেয়ে কিছুতেই তাঁকে বাড়িতে নিতে পারছেন না।


তিস্তাপারের মানুষের দুঃখগাথা শুনতে শুনতে নিজে কত দিন চোখের পানি মুছেছি, তার কোনো অন্ত নেই।


এই তো কিছুদিন আগে এক বয়স্ক লোকের সঙ্গে নদীর ভাঙনের আলাপ করছিলাম। নদী কর্মী হামিদুল ইসলাম ভিডিও করছিলেন।


বৃদ্ধ ব্যক্তি নিজের বাড়ি ভাঙার কথা বলা শুরু করার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। অবস্থা এমন হলো হামিদুল আর ভিডিও করতে পারলেন না।


আমিও চোখের পানি মুছতে থাকলাম। একের পর এক সাজানো–গোছানো সংসার কীভাবে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।


রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা থাকেন, তাঁদের নদীভাঙা মানুষের কষ্ট স্পর্শ করে কি না, জানা নেই। তাঁদের কাছে হয়তো এসব সংখ্যা নিছক ঘটনামাত্র। কিন্তু যার বাড়ি ভেঙে যায়, তার কাছে তো নিঃস্ব হওয়াই বাস্তবতা। নদীভাঙা মানুষের করুণ ইতিহাস শেষ হওয়ার নয়।


রংপুর অঞ্চল ছাড়া দেশের যেকোনো জায়গায় যখনই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়েছে, তখনই সরকার তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে। নিশ্চয়ই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের কথা মনে আছে। নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।


সেই সময়ে প্রধান উপদেষ্টা তাদের জন্য বিশেষ ত্রাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই বছরেই রংপুর অঞ্চলে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর পানিতে বন্যা এবং ভাঙনের শিকার একজন মানুষও ক্ষতিপূরণ পায়নি।


ওই সময়ে প্রথম আলো পত্রিকায় লিখেছিলাম ‘গরিবের কান্না কান্না নয়, গরিবের বন্যা বন্যা নয়’।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও