মহাবিশ্বে রহস্যময় গ্যালাক্সির সন্ধান
মহাবিশ্বের অসীম শূন্যতায় লুকিয়ে আছে কোটি কোটি নক্ষত্রপুঞ্জ আর রহস্যময় কৃষ্ণগহ্বর। সৃষ্টির আদিম ইতিহাস জানতে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশের গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। এবার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়েছে মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও দূরবর্তী এক অদ্ভুত গ্যালাক্সি, যা বিজ্ঞানীদের চেনা মহাজাগতিক ধারণাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, ডাব্লিউ ২২৪৬-০৫২৬ নামের গ্যালাক্সিটি এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে দূরবর্তী গ্যালাক্সি। জ্যোতির্বিজ্ঞান–বিষয়ক সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’তে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, নতুন গ্যালাক্সির চরম অবলোহিত বা ইনফ্রারেড উজ্জ্বলতার কারণ কেবল এর কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর নয়। গ্যালাক্সির কেন্দ্রের ওপরে ও নিচে থাকা উত্তপ্ত ধূলিকণার মেঘও এ তীব্র আলোর জন্য দায়ী। গ্যালাক্সিটি ৪ দশমিক ৬ রেডশিফটে অবস্থান করছে। এর ফলে বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ১২০ কোটি বছর পরের রূপে আমরা এখন এই গ্যালাক্সিকে দেখতে পাচ্ছি। এটি মূলত হট, ডাস্ট-অবসকিউরড গ্যালাক্সি। এ বিশেষ ধরনের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি অতি ভারী কৃষ্ণগহ্বর বা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল থাকে। এ ব্ল্যাকহোল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মহাজাগতিক উপাদান গ্রাস করতে থাকে এবং এটি ঘন ধূলিকণার আস্তরণে ঢাকা থাকে। কেন্দ্রের সেই সব ধূলিকণা ব্ল্যাকহোলের তীব্র বিকিরণকে সম্পূর্ণ শুষে নেয়। পরবর্তীকালে সেই শক্তিকে আবার ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো হিসেবে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে গ্যালাক্সিগুলো মহাবিশ্বের অন্যতম উজ্জ্বল বস্তুতে পরিণত হয়। এগুলো আমাদের নিজস্ব ছায়াপথ মিল্কিওয়ের চেয়ে প্রায় এক হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।