ভারতে খোলা জায়গায় ঈদের নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না

প্রথম আলো ভারত প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ২২:৪৪

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাট জেলার একটি ছোট মসজিদের ভেতরে একদল মুসলিম পুরুষ যখন ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছেন, তখন সেখানে উৎসবের আমেজ ছিল না বললেই চলে।


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে মালিয়ানা গ্রামের ওই মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের কথা শুনছেন প্রায় ৫০ জন মুসল্লি। তখন প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে তাঁদের মাথার ওপর সিলিং ফ্যানগুলো ঘুরছিল।


মুসলিম সম্প্রদায়ের এসব মানুষের এই আলোচনা কোরবানির পশু কিংবা দান-খয়রাত নিয়ে নয়, বরং রাস্তাঘাট, ব্যারিকেড, পুলিশের অনুমতি এবং ঠিক কোথায় ও কীভাবে তাঁরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন, সেই বিষয় নিয়ে এই আলোচনা।


কমিটির এক সদস্য নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘দয়া করে মসজিদের ফটকের বাইরে ভিড় করবেন না। মসজিদ পূর্ণ হয়ে গেলে, নামাজের পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করুন। তর্কাতর্কি এড়িয়ে চলুন। ভিডিও করা এড়িয়ে চলুন। কোনো উসকানিতে সাড়া দেবেন না।’


উপস্থিত পুরুষেরা নীরবে মাথা নাড়লেন। কেউ কেউ তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো দেখছিলেন, যেখানে স্থানীয় পুলিশের নির্দেশনা ইতিমধ্যে ছড়াতে শুরু করেছে; যাতে মুসলমানদের উন্মুক্ত স্থানে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপস্থিত অন্যদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ।


মালিয়ানার একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৭ সালের মে মাসে এখানে স্থানীয় হিন্দু দাঙ্গাবাজ এবং রাজ্য সরকারের প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারির (পিএসি) কর্মীরা ৭২ জন মুসলমানকে হত্যা করেছিল। ৩৬ বছর শুনানির পর ২০২৩ সালে জেলা আদালত প্রমাণের অভাবের অজুহাত দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের খালাস দেন।


তবে ওই মসজিদের কমিটি ও মুসল্লিদের ঈদের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করার পেছনে যে উদ্বেগ কাজ করছে, তা আরও সাম্প্রতিক।


মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত


২০১৪ সালে হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলো উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। তারা ট্রাফিক ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে শুক্রবারের জুমা ও উৎসবের দিনে মুসলমানদের উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করে আসছে।


এসব সংগঠন, এমনকি মোদির উগ্রপন্থী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনীতিবিদেরাও রাস্তা, পার্ক বা খালি জায়গায় নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। উন্মুক্ত স্থানে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের ভাইরাল ভিডিওগুলো ক্ষোভ এবং অনলাইন প্রচারণার জন্ম দিয়েছে; যার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ এসব জায়গায় নামাজ আদায়ের অনুমতি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।


গত সপ্তাহে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষস্থানীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ (ভিএইচপি) রাস্তাঘাটে নামাজ আদায়ের ওপর দেশব্যাপী সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে। এই অনুশীলনকে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের ‘শক্তি প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছে।


তবে মুসলমানদের যুক্তি হলো, উন্মুক্ত স্থানে নামাজ আদায়ের ওপর এই কড়াকড়ি একটি বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছে। অনেক মসজিদ এবং ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত মাঠ (যাকে ‘ঈদগাহ’ বলা হয়), সেখানে বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর এলাকায় শুক্রবারের বড় জামাত বা ঈদের সময় সব মুসল্লির স্থানসংকুলান হয় না।


ঈদুল আজহার আগের দিন মুসলমানদের সামনে মূল প্রশ্নটি হলো—তাঁরা কোনো ধরনের তল্লাশি, সংঘাত বা জনসাধারণের বৈরী আচরণের মুখোমুখি না হয়ে শান্তিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন কি না। বিশেষ করে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে, যা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মতোই জনবহুল। এই রাজ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মুসলমানের বসবাস—যা সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি।


উত্তর প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার, যার নেতৃত্বে আছেন মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য পরিচিত গেরুয়া বসনধারী কট্টরপন্থী হিন্দু সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর সরকার রাস্তা ও উন্মুক্ত স্থানে মুসলমানদের নামাজের ওপর কড়াকড়ি আরও জোরদার করেছে।


১৮ মে আদিত্যনাথ বলেছিলেন, মুসলমানদের উচিত ঈদুল আজহার নামাজ ‘শিফটে’ আদায় করা।


এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা লিখেছিলেন, ‘পেয়ার সে মানেঙ্গে ঠিক হ্যায়, নেহি মানেঙ্গে তো দুসরা তরিকা আপনায়েঙ্গে…(ভালোবাসায় মানলে ভালো, না মানলে অন্য পথ অবলম্বন করব)।’


উত্তর প্রদেশের মুসলমানদের কাছে আদিত্যনাথের এই ‘অন্য পথ’-এর হুমকির অর্থ অপরিচিত নয়।


মিরাটের একজন মুসলিম কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধের ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল–জাজিরাকে বলেন, গত বছর খোলা জায়গায় নামাজ আদায়ের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। কিছু জায়গায় বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন বাতিল করার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। এসব দেখার পর মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত।


নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দূরে আলিগড় জেলার দোকানদার আরিফ মালিক বলেন, গত ঈদুল আজহায় তাঁর এলাকার মুসলমানরা ‘একটি খোলা মাঠে মাত্র কয়েক মিনিট নামাজ পড়েছিলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এসে মুসল্লিদের তাড়া করেছিল।’


আরিফ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এই ঈদে পরিবারগুলো সবাইকে যেকোনো ধরনের ভিড় এড়িয়ে চলতে বলছে।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও