‘কালো জামাই’, ‘লাল বাদশাহ’ ও ‘টাইগাররা’ গাবতলীর হাটে
দুটি ষাঁড় পাশাপাশি বাঁধা। একটির নাম ‘কালো জামাই’, অন্যটি ‘সাদা জামাই’। ষাঁড় দুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে গতকাল সকালে রাজধানীর গাবতলী হাটে নিয়ে এসেছেন খামারি ইয়াকুব আলী।
কালো জামাইয়ের ওজন ১ হাজার ৫০০ কেজি। দাম হাঁকা হচ্ছে ৫৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে সাদা জামাইয়ের ওজন ১ হাজার ৩০০ কেজি। দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৫ লাখ টাকা।
খামারি ইয়াকুব আলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর খামারে গরু আছে ২০টি। এর মধ্যে দুটি ষাঁড় বিক্রি করার জন্য গাবতলী হাটে এনেছেন। ষাড় দুটির পেছনে মাসে খরচ ৩৬ হাজার টাকা। কালো জামাই পাঁচ বছর আর সাদা জামাই সাড়ে চার বছর ধরে লালন–পালন করেছেন। দুটি ষাঁড়ই ফ্রিজিয়ান জাতের।
গাবতলী হাটে হাঁটতে হাঁটতে পাওয়া গেল ‘নবাব’কেও। এই ষাঁড় এসেছে কুষ্টিয়া থেকে। দাম ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বাগেরহাট থেকে তিনটি ষাঁড় নিয়ে গতকাল সকালেই গাবতলীর হাটে এসে পৌঁছান আরেক খামারি হাবিবুল্লাহ খান। যে তিনটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন, তিনি এর মধ্যে একটির দাম চাচ্ছেন ২৮ লাখ টাকা। এই ষাঁড়ের নাম ‘সম্রাট বাবু’।
হাবিবুল্লাহ হক প্রথম আলোকে বলেন, ব্রাহমা জাতের এই ষাড় পাঁচ বছর ধরে লালন–পালন করেছেন। প্রতিদিন এর পেছনে খরচ প্রায় দেড় হাজার টাকা।
গাবতলী হাটে হাঁটতে হাঁটতে পাওয়া গেল ‘নবাব’কেও। এই ষাঁড় এসেছে কুষ্টিয়া থেকে। দাম ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত বৃহস্পতিবার এই ষাঁড় নিয়ে গাবতলী এসেছেন খামারি সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, লোকজন শুধু দাম জিজ্ঞেস করছে, হয়তো এক–দুদিন পর কিনতে আসবে।
নবাব থেকে কিছুটা দূরে বেঁধে রাখা হয়েছে ‘লাল বাদশাহ’কে। এই ষাঁড়ের দাম ৫০ লাখ টাকা চাইছেন ব্যাপারী জিয়াউর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ৪৬টি গরু নিয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় এসেছেন। চার লাখ টাকার নিচে তাঁর কাছে কোনো গরু নেই। ব্রাহমা জাতের লাল বাদশার ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি।
গাবতলী হাটে সারা বছরই পশু কেনাবেচা হয়। এটি ঢাকা উত্তর সিটির একমাত্র স্থায়ী হাট। এর বাইরে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আজ থেকে রাজধানীতে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে অস্থায়ী হাট বসবে ১১টি। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসবে ১০টি। বাংলাদেশে আগামী বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
‘টাইগারের’ সঙ্গে ভুট্টি ফ্রি
গরুর পাশাপাশি গাবতলীর হাটে মহিষও বিক্রি হচ্ছে। কেরানীগঞ্জ থেকে মহিষ ‘টাইগার’ নিয়ে এসেছেন খামারি মো. মজিবর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘টাইগার’–এর দাম ২৫ লাখ টাকা। ওজন ১ হাজার কেজি। কেউ টাইগারকে কিনলে তাঁকে একটি ভুট্টি (ছোট আকারের গরু) উপহার দেবেন।
টাইগার নাম রাখার কারণ উল্লেখ করে মজিবর বলেন, এই মহিষের অনেক শক্তি।