মধ্যবিত্তের নীরব কান্না নিয়ে কেউ কথা বলে না

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১১:৫২

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রাশেদ আলী। মাস শেষে বেতন পান ৪৮ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগেও এই আয়ে ছোট্ট সংসারটি কোনোভাবে সামলে নিতে পারতেন। ছেলে-মেয়ের স্কুল, বাসাভাড়া, বাজার, বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ—সব মিলিয়ে কষ্ট হলেও জীবন চলত। কিন্তু এখন মাসের মাঝামাঝি এলেই তাকে হিসাবের খাতা নিয়ে বসতে হয়।


গত ঈদে ছেলেকে নতুন জমা কিনে দিতে পারেননি। কয়েকদিন আগে মেয়েটি ফল খেতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন। রাতে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ার পর একা বসে তিনি মোবাইলের ক্যালকুলেটরে বারবার হিসাব মেলানোর চেষ্টা করেন—কোথায় কমাবেন, কীভাবে চলবেন। অথচ বাইরে থেকে দেখলে কেউ বুঝবেও না, এই মানুষটাই প্রতিদিন নীরবে ভেঙে পড়ছেন।


রাশেদ আলীদের মতো সমাজের সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা শ্রেণিটির নাম সম্ভবত মধ্যবিত্ত। তারা না গরিব, না ধনী। তাই তাদের কষ্টও যেন দৃশ্যমান নয়। রাষ্ট্রের সহানুভূতির বড় অংশ যায় দরিদ্র মানুষের দিকে, যা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। আবার ধনীরা নিজেদের অর্থ ও প্রভাব দিয়ে সংকট সামলে নেয়। কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবিত্ত মানুষগুলো প্রতিদিন এক অদৃশ্য যুদ্ধ লড়ে যায়—নীরবে, নিঃশব্দে।


এই শ্রেণির মানুষের কান্না সাধারণত প্রকাশ পায় না। কারণ তারা অভ্যাসগতভাবে মুখ লুকিয়ে বাঁচতে শেখে। সংসারে টান পড়লেও তারা আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে হাত পাততে পারে না। সন্তানদের সামনে অসহায় হতে চায় না। সমাজের সামনে নিজেদের ভাঙা অবস্থাও দেখাতে পারে না। ফলে তাদের কষ্টগুলো ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই বন্দি থাকে।


একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল স্থিতিশীলতা। সীমিত আয়ে হলেও তারা হিসাব করে চলত। মাস শেষে হয়তো কিছু টাকা সঞ্চয়ও করতে পারত। সন্তানদের লেখাপড়া, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ছোটোখাটো স্বপ্ন—সব মিলিয়ে জীবনটা কষ্টের হলেও নিয়ন্ত্রিত ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই ভারসাম্য ভয়াবহভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।


দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত আজ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। বাজারে গেলে মানুষ এখন আগের মতো তালিকা ধরে কেনাকাটা করতে পারে না। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে। মাছ, মাংস, দুধ, ফল— যা একসময় নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছিল, এখন অনেক পরিবারের কাছে বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। শিশুর পুষ্টি, বয়স্কদের ওষুধ কিংবা পরিবারের স্বাভাবিক চাহিদা—সবকিছুর মধ্যেই এখন হিসাব আর সংকোচ।


বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় এমনভাবে বেড়েছে যে মাসের বেতন হাতে পাওয়ার আগেই যেন তার গন্তব্য ঠিক হয়ে যায়। একটি চাকরিজীবী পরিবার আজ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকে মাসের শেষ সপ্তাহ নিয়ে। বেতনের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। অথচ মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা এমন যে তারা হুট করে গ্রামে চলে যেতে পারে না, আবার জীবনযাত্রার মানও সহজে কমাতে পারে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও