জনগণের করের টাকায় শ্বেতহস্তী কেন পোষা হবে

যুগান্তর মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৫৩

একটা নিয়ম আছে, সরকারকে প্রতিবছর বাজেট দিতে হয়। সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রীতি অনুযায়ী, বাজেট উত্থাপন করতে হয় জাতীয় সংসদে। সংসদে বাজেট পাশ করাতে না পারলে সরকার টেকে না। বাংলাদেশে এ অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।


আমাদের অর্থবছর হলো জুলাই থেকে জুন। নিয়ম করে প্রতিবছর জুনে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুর দিকেই উত্থাপন করা হয় বাজেট। জুনের বাকি দিনগুলোতে এ নিয়ে কাটাছেঁড়া চলে। কিছু পরিমার্জন হয়। তারপর এটি সংসদে অনুমোদিত হয়। জুলাই থেকে চলে তার বাস্তবায়ন।


বাজেট হচ্ছে আয়-ব্যয়ের হিসাব। একটি সরকার যখন বাজেট দেয়, সেটি শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে সীমিত থাকে না। এর মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকে রাজনীতি। সরকারের অর্থমন্ত্রী সচরাচর বাজেট বক্তৃতা দেন। বক্তৃতার শুরুতে ও শেষের দিকে থাকে রাজনৈতিক কথাবার্তা। এর মধ্যে থাকে সরকারি দলের দৃষ্টিভঙ্গি, জীবিত ও মৃত নেতাদের নিয়ে প্রশস্তিগাথা, অগ্রাধিকারের তালিকা এবং শেষমেশ ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু আশাবাদ। আগে যে কিছুই হয়নি বা হলেও নিয়মের অনেক ব্যত্যয় ঘটেছে এবং এখন থেকে দেশ যে উন্নতির দিকে শনৈ শনৈ এগোতে থাকবে, অর্থমন্ত্রী এটি বলতেও ভোলেন না। স্ক্রিপ্ট লিখে দেন কর্মকর্তারা। সরকার বদলে গেলে বাজেটের রাজনৈতিক অংশটুকুর স্ক্রিপ্ট বদলে যায়। আয়-ব্যয়ের হিসাবের অংশটুকু প্রায় একই রকম থেকে যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবরণ ও চাহিদা সমন্বয় করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এটি তৈরি করে দেন। দেশে রাজনৈতিক সরকার না থাকলেও বাজেটের আকৃতি ও প্রকৃতিতে তেমন হেরফের হয় না। শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যটুকু থাকে না বা থাকলেও তা ভিন্নরকমের হয়।


১৯৭২ সালে ৩০ জুন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রথম বাজেট উত্থাপন করেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। ওই সময় দেশে জাতীয় সংসদ ছিল না। ছিল একটি গণপরিষদ। এর কাজ ছিল একটি সংবিধান তৈরি করা। তাজউদ্দীন আহমদ বাজেট উত্থাপন করেছিলেন একটি সংবাদ সম্মেলনে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২৯১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং প্রস্তাবিত রাজস্ব ব্যয় ছিল ২১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আলাদা করে ৫০১ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। আগের দিন যোগাযোগমন্ত্রী এম মনসুর আলী পৃথক রেল বাজেট উত্থাপন করেছিলেন। পাকিস্তান আমল থেকেই রেল বাজেট আলাদাভাবে তৈরি করা হতো। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের রেল বাজেটে প্রস্তাবিত রাজস্ব আয় ছিল ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। একইসঙ্গে উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয় ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। রেল বাজেট এখন আর আলাদা করে তৈরি হয় না।


৫৪ বছরে দেশ অনেক বদলে গেছে। মানুষ বেড়েছে। অর্থনীতি বড় হয়েছে। আয় ও ব্যয়ের খাতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কয়েক বছর আগে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত যখন ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণ করেছিলেন, তখন এটিকে একটি মাইলফলক হিসাবে দেখা হয়েছিল। এ বছর বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটিতে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।


১৯৭২-৭৩ সালের বাজেটের অঙ্ককে পেছনে ফেলে দিয়েছে অনেকের ব্যক্তিগত আয়। এখন তো হাজার কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্পই হয় না। আমরা বেশ কয়েক বছর আগেই ঢুকে গেছি মেগাপ্রকল্পের যুগে। এখন একেকটি প্রকল্পের ব্যয় ১০-২০-৩০ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি। আমাদের জনসমষ্টির একটি বড় অংশ অসচ্ছল হলেও সামষ্টিক অর্থনীতি অনেক বড় হয়েছে।


রাজস্ব আয়ের উৎস হলো কর ও শুল্ক। রাজস্ব ব্যয়ের পর কিছু উদ্বৃত্ত থাকে। সেটি খরচ হয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। তবে এ উদ্বৃত্ত যথেষ্ট নয়। একটা বড় অর্থনীতির দেশ হতে হলে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়। এজন্য সরকার নানান অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ করে। সেই ঋণ শোধ করতে গিয়ে বাজেটে টান পড়ে। তখন রাজস্ব আয় বাড়াতে হয়। এটা করতে গিয়ে বেশি বেশি শুল্ক ও কর আদায় করতে হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও