কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ধারা
যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নেতা-কর্মী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছেই কোরবানির পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোথাও তাঁরা সরাসরি ইজারাদার হিসেবে থাকেন, আবার কোথাও নেপথ্যে থেকে হাট পরিচালনা করেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের বাইরে অন্য কেউ দরপত্র দাখিল করার সাহসও পান না। যদিও কাগজে-কলমে দেখানো হয়—নিয়ম মেনেই দরপত্রের মাধ্যমে হাটের ইজারা নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে। গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই নিয়ন্ত্রণ এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় দলটির নেতা-কর্মীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমঝোতার মাধ্যমে দরপত্র দাখিল করতেন। আগেই ঠিক করা হতো কোন হাট কে ইজারা নেবেন। যদিও পুরো প্রক্রিয়াকে ‘প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ’ দেখানো হতো। একটি হাটে যাতে একাধিক দরপত্র জমা হয়, সেই ব্যবস্থা করতেন তাঁরা। কে কত দর উল্লেখ করবেন, তা সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ বা দলটির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বাইরে অন্য কেউ যাতে দরপত্র জমা দিতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও থাকত। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও পুরোনো সেই ধারা খুব বেশি বদলায়নি।
- ট্যাগ:
- বাংলাদেশ
- কোরবানির পশুর হাট
- ইজারা