বড়দের ঢালাও ঋণ সুবিধা: বাংলাদেশ ব্যাংক কেন ‘ঝুঁকির পথে’ হাঁটছে?
ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থনীতিতে টাকার সরবরাহ বাড়াতে ঋণসীমায় বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর ফলে বড় গ্রহীতারা ব্যাংক থেকে আরো বেশি ঋণ নিতে পারবেন, যা খেলাপি ঋণের বোঝা আরো বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করবে।
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হল যে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ঋণ সীমা বাড়াতে হল? এর ব্যাখ্যা আরো স্পষ্ট হওয়া দরকার।”
তার ভাষ্য, “ব্যাংক খাতে এমনিতেই সিস্টেমেটিক রিস্ক আছে, তা কেন বাংলাদেশ ব্যাংক আরো বাড়াতে যাচ্ছে, তা বোধগম্য হচ্ছে না।’’
এদিকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে রাজধানীর বাইরে এসএমই খাতে এক হাজার কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা বাজারে তারল্য সরবরাহ আরো বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলমান সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতির বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রসারণ নীতিতে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। তাতে ৯ শতাংশের উপরে থাকা মূল্যস্ফীতির হার আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যাংক খাতের অতীত অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে তারা বলছেন, ঢালাওভাবে সুবিধা দেওয়া দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নয়। সব ব্যাংকের ঝুঁকি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সমান নয়। ফলে খেলাপি ঋণসহ ব্যাংক খাতের সমস্যা আরো যেতে পারে।
আর পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্ত বন্ড মার্কেটের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত করবে। ব্যবসায়ীদের পুঁজিবাজারমুখী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা হওয়া দরকার।