ভিসি নিয়োগ, আনুগত্য ও জ্ঞানের প্রজাতন্ত্র
সরকার বদলের পর বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন টকশো এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে পুরোনো বিতর্ক আবারও ফিরে এসেছে-এগুলো কি দলীয় নিয়োগ, নাকি নির্দলীয়? এসব প্রশ্ন বাংলাদেশের রাষ্ট্র-রাজনীতিকে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদে নিয়োগ বহুদিন ধরেই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার রাজনৈতিক বিন্যাসের অংশ হয়ে আছে। যে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেও তার প্রভাব প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যায়। অতীতের সরকারগুলো যেমন এ অনুশীলন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, বর্তমানেও তেমন কোনো মৌলিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি।
ভিসি নিয়োগ শুধু ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং বিদ্যমান কাঠামোগত রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, আমলাতন্ত্র, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সংস্কার, শুদ্ধাচার, শুদ্ধিকরণের বদলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের যে রাজনৈতিক মানসিকতা, তা এখনো অটুট রয়েছে। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্তরাও খোলস পালটে এ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে নানা কৌশলে ও তেল-মর্দনের মাধ্যমে সামনে চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভিসি, প্রো-ভিসি কিংবা কোষাধ্যক্ষের মতো পদগুলো প্রায়শই একাডেমিক নেতৃত্বের চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের জায়গা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ভিসি অবরুদ্ধ
- ভিসি নিয়োগ