আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে সুশাসনের অনিবার্যতা
মুসলিম জীবনের সার্থকতা কেবল মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণের মধ্য দিয়ে নয়, কিংবা জনসংখ্যা ও সম্পদের বিশাল প্রবৃদ্ধিতেও নয়। বরং পৃথিবী পৃষ্ঠের এ সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটা দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলো; তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সুশাসনের ওপর। মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত সাফল্য দৃশ্যমান হয় রাষ্ট্রনির্মাণে ইসলামি রীতিনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখে। বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামি রীতিনীতি অনুযায়ী কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণে কিছুটা ব্যর্থতার ছবি আজ স্পষ্ট। আমাদের দেশে ইসলাম চর্চাকে কেবল নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ও দোয়া-দরুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অথচ এ চর্চাকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করার পর্যায়ে উন্নীত করতে পারলেই একটি প্রকৃত কল্যাণরাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
জীবনের পথচলায় পবিত্র কুরআন যে রোডম্যাপ দেয়, সেটিই একমাত্র সঠিক পথপ্রদর্শক। দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ মুসলিমরা ইসলামের সঠিক রীতিনীতি ত্যাগ করে স্বার্থবাদ, দলবাদ, ফ্যাসিবাদ ও সেক্যুলারিজমের পথে হাঁটছেন। এ পথগুলো মূলত বিচ্যুতি, বিদ্রোহ ও পাপের পথ। আমরা নবীজিকে (সা.) রাসূল ও পথপ্রদর্শক হিসাবে বিশ্বাস করলেও তার বাণী ও প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করছি না সঠিকভাবে। অথচ কল্যাণরাষ্ট্রে রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থায় কী করণীয়, সেটিই ছিল নবীজি (সা.)-এর মূল মিশন। তিনি মানবজাতির জন্য এ বিষয়গুলো হাতে-কলমে শিখিয়ে গেছেন। ইবাদতকে তিনি কেবল ব্যক্তিগত উপাসনায় সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং মহান আল্লাহর এজেন্ডাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। মানব ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ নেক কর্ম এবং তিনি নিজে দশ বছর সেই রাষ্ট্রের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।