নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ: সচেতনতাতেই জীবনরক্ষা
১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে World Hypertension League ও International Society of Hypertension এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘একসঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন, নীরব ঘাতককে পরাজিত করুন’।
অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রায়ই একটি স্থায়ী রোগ হিসেবে বিবেচিত। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি হঠাৎ মৃত্যুরও ঝুঁকি থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন কী?
স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো সেই চাপ, যার সাহায্যে রক্ত শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছায়। হৃদ্পিণ্ডের পাম্পিং ক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তচাপ সৃষ্টি হয়। রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা নেই। বয়সভেদে মানুষের রক্তচাপ ভিন্ন হতে পারে এবং একই মানুষের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে রক্তচাপ কমবেশি হতে পারে। উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, অধিক পরিশ্রম, কম ঘুম ও অতিরিক্ত ব্যায়ামের ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। আবার ভালো ঘুম ও বিশ্রামে রক্তচাপ কমে যায়। এটি স্বাভাবিক পরিবর্তন।
সাধারণত বয়স যত কম, রক্তচাপও তত কম থাকে। যদি কারও রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি হয় এবং অধিকাংশ সময়, এমনকি বিশ্রামকালেও বেশি থাকে, তবে ধরে নিতে হবে তিনি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।
রক্তচাপ কত প্রকার?
রক্তচাপ দুই ধরনের— সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক। সাধারণত স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ ১০০ থেকে ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৬০ থেকে ৯০ মিলিমিটার মার্কারি (মি.মি. এইচজি)। কারও রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ বা এর বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। তবে বয়সভেদে কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ কি জটিল ব্যাধি?
উচ্চ রক্তচাপ ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় এর কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় না। এটিই উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে খারাপ দিক। যদিও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না, তবুও নীরবে এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণেই উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। অনিয়ন্ত্রিত ও চিকিৎসাবিহীন উচ্চ রক্তচাপ থেকে মারাত্মক শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপে কী কী জটিলতা হতে পারে?
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ চারটি অঙ্গে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে— হৃদ্পিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ও চোখ।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদ্যন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং হৃদ্যন্ত্র ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না। এই অবস্থাকে বলা হয় হার্ট ফেইলিওর। রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন হতে পারে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস