স্নায়ুর চাপে পড়েছে বিশ্বরাজনীতি

যুগান্তর মনজুর কাদের প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ১১:১৭

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এবং বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে চীনের দুই প্রধান শক্তি-চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং জাতীয়তাবাদী সরকার কুওমিনতাং জাপানের বিরুদ্ধে থাকা শক্তিশালী দেশগুলোর সহায়তা পেয়েছিল, তবে সহায়তার ধরন ও মাত্রা আলাদা ছিল। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) কুওমিনতাং সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করলেও আদর্শগত কারণে কমিউনিস্টদের প্রতি ছিল বেশি সহানুভূতিশীল।


জাপান ১৯৩৭ সালে চীন আক্রমণ শুরু করলে চীনের জাতীয়তাবাদী সরকারকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিমান, ট্যাংক, অস্ত্র ও সামরিক পরামর্শ দেয়। সোভিয়েত পাইলটরাও জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়। একই সময়ে তারা মাও সে তুং-এর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বাহিনীর যোদ্ধাদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখে। ১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের মুহূর্তে সোভিয়েত বাহিনী মানচুরিয়ায় জাপানি বাহিনীকে ধ্বংস করে। পরে সেখানে থাকা বহু জাপানি অস্ত্র চীনা কমিউনিস্টদের হাতে যায়, যা পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্টদের শক্তিশালী করে। চীনের গৃহযুদ্ধে আমেরিকা কুওমিনতাংকে সমর্থন করেছিল। অপরদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন চীনকে সমর্থন দেয়।


মাওয়ের বুদ্ধিমত্তা


জাপানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনের নেতা মাও সে তুং রাজনীতিতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন। জাপানি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এবং নিজ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তার নেতৃত্বে সংগঠিত কমিউনিস্ট পার্টি এবং রাজনৈতিক শত্রু কুওমিনটাং সাময়িকভাবে জোট বাঁধে। অর্থাৎ তারা নিজেদের গৃহযুদ্ধ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রেখে জাপানের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলে; কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কমিউনিস্ট এবং জাতীয়তাবাদের মধ্যে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং-এর নেতৃত্বে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) চীনে সফল বিপ্লব হয়। এ বিপ্লব চিয়াং কাইশেকের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং সরকারের পতন ঘটায়, যারা তাইওয়ানে পালিয়ে যায়।


সংশোধনবাদ : সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ


সোভিয়েত নেতা জোশেফ স্ট্যালিন চীনকে শিল্প, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেন। কোরিয়া যুদ্ধেও তারা একই পক্ষ সমর্থন করে। কিন্তু স্ট্যালিনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। আদর্শিক বিরোধের মূল কারণ ছিল ‘ডি-স্ট্যালিনাইজেশন’ (স্ট্যালিনকে বর্জন) নিয়ে। ১৯৫৬ সালে নিকিতা ক্রুশ্চেভ স্ট্যালিনের ব্যক্তিপূজা ও দমননীতির সমালোচনা করেন। মাও এটাকে বিপজ্জনক মনে করেন। কারণ, এতে কমিউনিস্ট আন্দোলনের কর্তৃত্ব দুর্বল হবে বলে তিনি ভাবতেন। মাও সে তুং-এর মতে, ১৯৫৬ সালের পর সোভিয়েত ইউনিয়নে পুঁজিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তারা পরাশক্তি হিসাবে অন্যান্য দেশে আধিপত্য বিস্তার ও শোষণ শুরু করে। তিনি রাশিয়াকে সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ হিসাবে আখ্যায়িত করে বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন মুখে সমাজতন্ত্রের কথা বললেও কার্যত সাম্রাজ্যবাদী নীতি অনুসরণ করছে।


নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা


দুই দেশই বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা হতে চাইছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল পুরোনো ও শক্তিশালী কমিউনিস্ট রাষ্ট্র। ১৯৫৬ সালের পর থেকে চীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পুঁজিবাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সখ্য গড়ার চেষ্টা করেনি, বরং সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াইকে চীন ‘দুই কুকুরের কামড়াকামড়ি’ বলে অভিহিত করে। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে। ১৯৬৯ সালে চীন-সোভিয়েত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষও হয়। এর প্রভাবে কমিউনিস্ট বিশ্ব বিভক্ত হয়ে যায় : কেউ হন মস্কোপন্থি, আবার কেউ বনে যান পিকিংপন্থি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও